ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেস। শনিবার এক বিবৃতিতে দলটি এই হামলাকে ‘যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া পরিচালিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে স্পষ্ট ভাষায় এর বিরোধিতা করেছে।
কংগ্রেসের বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাকে সামরিক হামলার মাধ্যমে হত্যা আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। দলটি সতর্ক করে বলেছে, এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দেওয়াসহ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
তবে এই ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও খামেনির নিহত হওয়ার প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু বলেনি। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়।
ভারত ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে উষ্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। জ্বালানি আমদানি, আঞ্চলিক বাণিজ্য এবং চাবাহার বন্দরের মতো কৌশলগত প্রকল্পে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে খামেনির মৃত্যুর পর নয়াদিল্লির নীরবতা রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব—এই দ্বৈত বাস্তবতায় দিল্লি সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। বিরোধী দল কংগ্রেস অবশ্য মনে করছে, আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ভারতের আরও স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে বৈশ্বিক বাজার ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তার প্রতিক্রিয়া দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের সরকারি অবস্থান কী হবে, তা এখন কূটনৈতিক মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।