হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

কিশোরী মডেলকে আল ফায়েদের ইয়টে পাঠিয়েছিলেন এপস্টেইন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

দ্য টাইমসের ছবিতে জেফরি এপস্টেইন (সামনে) ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল-ফায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত অর্থ লগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী হিসেবে পরিচিত জেফরি এপস্টেইনের বিরুদ্ধে নতুন এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ‘নাটালি’ ছদ্মনামে পরিচিত এক নারী দাবি করেছেন, কিশোরী বয়সে মডেলিং পেশায় থাকাকালে এপস্টেইন তাঁকে ব্রিটিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আল ফায়েদের কাছে পাঠিয়েছিলেন এবং সেখানে তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন।

নাটালি জানান, মাত্র ১৭ বছর বয়সে ফ্যাশন জগতের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে এপস্টেইনের পরিচয় হয়েছিল। এরপর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি এপস্টেইনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে যান। এপস্টেইন প্রায় সব সময় জানতেন তিনি কোথায় আছেন। স্পেন, জার্মানি, লন্ডন কিংবা প্যারিস—নাটালি যেখানেই থাকতেন না কেন, তাঁর গতিবিধি এপস্টেইনের নজরে ছিল।

১৯৯৭ সালের গ্রীষ্মে এপস্টেইনের এক সহকারী নাটালির কাছে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে লেখা ছিল, ‘এই ব্যক্তি খুব প্রভাবশালী। তাঁর সঙ্গে তোমার দেখা করা উচিত। এখানে তোমার জন্য ভালো একটি সুযোগ হতে পারে।’

পরে জানা যায়, সেই ‘প্রভাবশালী ব্যক্তি’ ছিলেন তখনকার বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর হ্যারোডসের মালিক এবং প্যারিসের বিলাসবহুল ‘রিটজ-প্যারিস’ হোটেলের নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ আল ফায়েদ।

এপস্টেইনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, তিনি ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে তরুণীদের পাঠাতেন। তবে আল ফায়েদের সঙ্গে তাঁর এমন সম্পর্কের অভিযোগ আগে কখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

নাটালির তথ্যমতে, সেই সময়টিতে তাঁকে জানানো হয়েছিল—আল ফায়েদ ফ্রান্সের সেন্ট-ত্রোপেজে নোঙর করা নিজের বিলাসবহুল ইয়টে অবস্থান করছেন। নাটালি তখন ইউরোপের অন্য একটি শহরে একটি ক্যাটালগ ফটোশুটে ছিলেন। বার্তা পাওয়ার পর তিনি দ্রুত পরিকল্পনা বদলে নিকটতম বিমানবন্দরে যান এবং সেন্ট-ত্রোপেজের উদ্দেশে রওনা হন।

নাটালি আরও জানান, এপস্টেইন প্রায়ই তাঁকে এমনভাবে সুযোগের কথা বলতেন, যেন তা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এপস্টেইন বলতেন, তিনি মডেলিং জগতের অনেককে চেনেন—ফটোগ্রাফার, প্রভাবশালী মানুষ। ফলে ক্যারিয়ারের জন্য তাঁর পরামর্শকে একটি বড় সুযোগ মনে হতো।

নাটালির ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়টে পৌঁছানোর পর তাঁকে বয়সে অনেক বড় একজন মানুষ স্বাগত জানান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ‘মোহাম্মদ’ বলে পরিচয় দেন। ইয়টে আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন নিজেকে মোহাম্মদ আল ফায়েদের ভাই হিসেবেও পরিচয় দেন।

সে সময় আল ফায়েদের ছেলে দোদি ফায়েদের প্রেমিকা ছিলেন প্রিন্সেস ডায়ানা। ওই গ্রীষ্মে দোদি আর ডায়ানা ফায়েদের সুপারইয়ট ‘জোনিক্যাল’-এ অবস্থান করছিলেন বলেও বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়। তবে নাটালি জানান, তিনি তাঁদের কাউকে দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে সেই নৌকাটিতেই ছিলাম এবং নিশ্চিতভাবে সেই মানুষটিই (মোহাম্মদ আল ফায়েদ) ছিলেন। তাঁর মুখ আমি মনে রেখেছি। এমন ঘটনা কেউ ভুলে যায় না।’

নাটালি জানান, ইয়টে কয়েক ঘণ্টা কাটানোর সময় আল ফায়েদ তাঁর প্রতি অশোভন যৌন উদ্দীপক মন্তব্য করতে শুরু করেন এবং ‘নতুন কিছুর স্বাদ নিতে চান’ বলে ইঙ্গিত দেন। একপর্যায়ে নাটালি সেখান থেকে চলে যেতে চাইলেও নৌকাটি আবার বন্দরে না পৌঁছানো পর্যন্ত তাঁর কোনো উপায় ছিল না।

এরপরই তিনি যৌন নিপীড়নের শিকার হন বলে অভিযোগ করেন। নাটালি বলেন, ‘তখন মনে হয়েছিল, আমি যেন এই ধরনের আচরণের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি শুধু জেফরিকে খুশি রাখার জন্যই সেখানে ছিলাম। তিনি যাঁদের সঙ্গে দেখা করতে বলতেন, আমি তাঁদের সঙ্গেই দেখা করতাম, যেন তিনি আমাকে সুযোগ দেন।’

১৯৯৭ সালের সেই গ্রীষ্মে ‘জোনিক্যাল’ সুপারইয়টে মোহাম্মদ আল ফায়েদের সঙ্গে তাঁর ছেলে দোদি ও দোদির প্রেমিকা প্রিন্সেস ডায়ানাও ছিলেন। ছবি: দ্য টাইমস

আজ রোববার (১৫ মার্চ) যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুর পর মোহাম্মদ আল ফায়েদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ৪০০-এর বেশি নারী সামনে এসেছেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ সার্ভিস সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত জোরদার করেছে। এই তদন্তের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন কর্নপপি’। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করার পর তদন্ত আরও দ্রুত এগোচ্ছে।

ব্রিটিশ তদন্তকারীরা এপস্টেইনের লন্ডনের বিমানবন্দর ব্যবহারের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে, লন্ডনের দুটি বিমানবন্দরে তাঁর ব্যক্তিগত বিমানের যাতায়াতের তথ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। এসব বিমানবন্দরে একসময় ‘হ্যারোডস অ্যাভিয়েশন’ নামের একটি ভিআইপি পরিষেবা চালু ছিল, যা আল ফায়েদের মালিকানাধীন হ্যারোডস কোম্পানির অংশ ছিল।

নাটালি জানান, কয়েক বছর পর তিনি অবশেষে এপস্টেইনের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় লেগেছে বুঝতে যে, আমার সঙ্গে যা ঘটেছিল ,তা মানব পাচার ছিল। এখনো অনেক কিছু বোঝা বাকি রয়েছে।’

এপস্টেইন মডেলিং জগৎকে তরুণীদের কাছে পৌঁছানোর একটি পথ হিসেবে ব্যবহার করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তিনি ফরাসি মডেল এজেন্ট জ্যঁ-লুক ব্রুনেলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন। ব্রুনেল ২০০০ সালে এমসি ২ মডেল ম্যানেজমেন্ট নামে একটি এজেন্সি গড়ে তুলেছিলেন। এই এজেন্সির মাধ্যমেই তরুণীদের এপস্টেইনের কাছে নিয়ে যাওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালে বিচার শুরুর আগেই কারাগারে আত্মহত্যা করেন ব্রুনেল। অন্যদিকে যৌন পাচারের মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এপস্টেইন ২০১৯ সালে নিউইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করেন।

লিপ-রিডারদের দক্ষতায় ফেঁসে যাচ্ছেন রাজপরিবারের সদস্য ও তারকারা

এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল

ইরানে হামলাকে সমর্থন জানাল পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন

যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার কোনো প্রস্তাব আমরা দিইনি—ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিলেন আরাঘচি

ইরানের পরমাণু স্থাপনা এখন ধ্বংসস্তূপ, নিরাপদ নৌ চলাচলে আলোচনার পথ খোলা: আরাঘচি

মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান, কাতার-সাইপ্রাসে টাইফুন, এফ-৩৫ মোতায়েন

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরান যুদ্ধ শেষ হতে পারে: মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী

বিশ্বের জ্বালানি বাজারের চাবিকাঠি এখন ইরানের হাতে

এক যুদ্ধের ক্ষত নিয়ে আরেক যুদ্ধে আটকে গেল মধ্যপ্রাচ্যের ছোট্ট এই দেশ

ট্রাম্প ও তাঁর মিত্ররা ছাড়া হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খোলা: ইরান