যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়া বৃহস্পতিবার ওমান উপসাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে যৌথ নৌমহড়া পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ফার্স নিউজ’ জানায়, মহড়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ওমান সাগর ও উত্তর ভারত মহাসাগরে নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি। ইরানি নৌবাহিনীর এক কমান্ডারের উদ্ধৃতি দিয়ে সংস্থাটি বলেছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের সমন্বিত সামরিক মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এর একদিন আগে ইরান ঘোষণা দেয়, নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার অংশ হিসেবে তারা কৌশলগত হরমুজ প্রণালির কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। একই সময়ে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওই জলপথে সামরিক মহড়া চালায়। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’–এর তথ্যে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল পর্যন্ত ওই এলাকায় স্বাভাবিক নৌচলাচলের চিত্র দেখা গেছে। প্রণালিটি পুনরায় পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে তেহরানের আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের সংযোগ স্থাপন করে। ফলে এই জলপথে যেকোনো অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে পারমাণবিক ইস্যুতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চললেও উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সমঝোতা না হলে তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়—সম্ভাব্য সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহব্যাপী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে এবং এতে ইসরায়েলের অংশগ্রহণও থাকতে পারে।
তবে আলোচনার ক্ষেত্রেও কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। জেনেভায় দ্বিতীয় দফা বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, যদিও কয়েকটি ‘লাল দাগ’ এখনো বহাল রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শূন্যে নামিয়ে আনা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সম্ভাব্য চুক্তির জন্য একটি সাধারণ নীতিগত কাঠামোয় দুই পক্ষ একমত হয়েছে এবং শিগগিরই খসড়া প্রণয়ন শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ আগের চেয়ে গঠনমূলক ছিল। তবে মতপার্থক্য দূর করতে সময় লাগবে।’
এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার যৌথ নৌমহড়া মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।