মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আলোচনা করবেন। নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আজ এই তথ্য জানান। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটু স্বস্তির পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছি। দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের নেতারা কথা বলতে যাচ্ছেন, প্রায় ৩৪ বছর। আগামীকাল এটা ঘটতে যাচ্ছে। চমৎকার!’ তবে ঠিক কোন কোন নেতারা কথা বলবেন, ট্রাম্প সেটি সুনির্দিষ্ট করে বলেননি। এই নেতা বলতে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগ, নাকি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালামের কথা বোঝাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটনে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা বসে ইসরায়েল ও লেবানন। এর আগে, ১৯৯৩ সালে ইসরায়েল ও লেবানন সর্বশেষ আলোচনায় বসেছিল। তবে সেই আলোচনাটি শীর্ষ নেতা পর্যায়ে ছিল না। ইসরায়েলের সঙ্গে এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসার আগে লেবানন সম্ভবত যুদ্ধবিরতির দাবি জানাবে। তবে ইসরায়েল এখন পর্যন্ত তাতে রাজি হয়নি। কারণ, তারা হিজবুল্লাহর শক্তি আরও কমিয়ে দিতে চায়।
গত রাতে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে লেবানন পরিস্থিতির সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে খবর অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেই সভা শেষ হয়েছে।
এদিকে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ের সমান্তরালে আমরা লেবাননের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। এই আলোচনাগুলো এখন সম্ভব হচ্ছে কারণ আমরা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দেশগুলো আমাদের কাছে আসছে—শুধু লেবানন নয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এই আলোচনার দুটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে—প্রথমত, হিজবুল্লাহকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং দ্বিতীয়ত, একটি টেকসই শান্তি অর্জন করা—শক্তির মাধ্যমে শান্তি।’ নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের বাহিনী হিজবুল্লাহর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য হলো বিনত জাবেইলে হিজবুল্লাহর একটি প্রধান ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া। তিনি আরও জানান, গতকাল তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফকে ‘নিরাপত্তা অঞ্চলকে আরও শক্তিশালী করতে এবং মাউন্ট হারমনের ঢালু অঞ্চলের পূর্ব দিকে প্রসারিত করার নির্দেশ দিয়েছেন’। যাতে সেখানে বসবাসরত দ্রুজ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করা যায়।