ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার ফলাফল শেষ পর্যন্ত ইরানের পক্ষেই যাবে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং জেদাল টিভির সঞ্চালক আলী আলীজাদেহ। তাঁর মতে, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর (ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী ব্যবস্থা) ফুরিয়ে আসার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
লন্ডন থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলীজাদেহ আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল মূলত নিজেদের তৈরি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার তুলনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তেহরানের অনেক বেশি।
আলীজাদেহ উল্লেখ করেন, সময় এখন ইরানের পক্ষে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে যে ইরানের কৌশল হলো অত্যন্ত কম খরচে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র তৈরি করা। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়, তবে ইরানই লাভবান হবে।’
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন হতে পারে। গত বছরের জুনে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ১২ দিনের হামলার প্রসঙ্গ টেনে আলীজাদেহ বলেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন ইসরায়েলি নাগরিকদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তুলবে।
আলীজাদেহ প্রশ্ন তোলেন, ‘ইসরায়েল এবং আমেরিকা কি সেই মুহূর্তের জন্য প্রস্তুত, যখন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র (অ্যান্টি-এয়ার মিসাইল) ফুরিয়ে আসবে? তারা কি ইসরায়েলি জনগণ এবং আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে অরক্ষিত রাখার চড়া মূল্য দিতে রাজি আছে?’
ফাঁদে পড়েছেন ট্রাম্প?
আলীজাদেহর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সম্ভবত ইসরায়েল এই যুদ্ধের দিকে টেনে এনেছে। তিনি মনে করেন, ট্রাম্প হয়তো ইরান সরকারের আঘাত সহ্য করা এবং পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা করতে পারেননি।
আলীজাদেহ আরও যোগ করেন, ‘ইরান রাষ্ট্র হিসেবে অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক এবং ঘাতসহ। আমার মনে হয় এটি ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে দেওয়া একটি যৌথ যুদ্ধ। ট্রাম্প এখন বুঝতে শুরু করেছেন যে তিনি নিজেকে কতটা কোণঠাসা করে ফেলেছেন।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের ব্যয়ভার এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকে আলোচনার টেবিলে ফিরতে বা কৌশল পরিবর্তন করতে বাধ্য করতে পারে।