করোনার প্রকোপ এখনো কমেনি। বিশেষ করে ইউরোপের দেশগুলোতে এখনো লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। এর মধ্যে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও এর আশপাশের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইউরোপের প্রভাবশালী বেশ কয়েকটি দেশ। ইউরোপের বাইরের দেশগুলোও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার পথেই হাঁটছে। এই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশ। এমন পরিস্থিতি বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। এতে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ার শঙ্কা জেগেছে।
গতকাল রোববার এক বক্তব্যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির সমালোচনা করে বলেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কেবল এই দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হবে। এছাড়া মহামারি মোকাবিলা এবং কাটিয়ে উঠতে আমাদের সক্ষমতাকেও এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে খাটো করা হয়েছে।’
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তকে ‘বৈজ্ঞানিকভাবে অযৌক্তিক’ উল্লেখ করে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘অনতিবিলম্বে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে।’
বিশ্বে টিকার যে বৈষম্য চলছে সেটি দূর করা জরুরি। করোনার ওমিক্রন ধরন সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার একটি সতর্ক বার্তা উল্লেখ করে সিরিল রামাফোসা বলেন, ‘সবাইকে টিকার আওতায় আনার আগ পর্যন্ত করোনার নতুন নতুন ধরন ঠেকানো যাবে না। দক্ষিণ আফ্রিকায় টিকার কোনো ঘাটতি নেই। সবাইকে টিকা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনার অতিসংক্রামক ধরন ডেলটার চেয়েও বেশি সংক্রমণ ক্ষমতা ওমিক্রনের।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন এই ধরন প্রথম শনাক্ত হয়। গত দুই সপ্তাহে দেশটির গৌতেং প্রদেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। প্রাথমিকভাবে করোনার নতুন এ ধরনটির বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয় বি.১. ১.৫২৯। পরে গত শুক্রবার এর নাম দেওয়া হয় ‘ওমিক্রন’।