নাইজেরিয়ার তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেলটার ওয়ারি (Warri) রাজ্য বহু দশক ধরে আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে। কিন্তু বিপুল তেলসম্পদ থাকার পরও এই অঞ্চলের অনেক মানুষ এখনো মৌলিক অবকাঠামো, বিশুদ্ধ পানীয় জল, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় ওয়ারির রানি অলোরি আতুওয়াতসে (তৃতীয়) মনে করেন, দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ তেল নয়, মানুষ।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অলোরি বলেন, ওয়ারি রাজ্য এক ধরনের ‘রিসোর্স কার্স’ বা সম্পদের অভিশাপের শিকার। এখান থেকে বিপুল সম্পদ আহরণ করা হলেও স্থানীয় মানুষের উন্নয়নে তার প্রতিফলন খুব কমই দেখা যায়।
২০২১ সালে ওয়ারির ২১ তম ‘ওলু’ বা রাজা হিসেবে তসোলা অ্যামিকো সিংহাসনে আরোহণের পর তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাজতন্ত্রকে আধুনিক উন্নয়নমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। রাজার উদ্যোগে ‘অফিস অব দ্য অলোরি’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে নারী, শিশু ও শিক্ষাবিষয়ক উন্নয়ন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন রানি।
রানি অলোরি বলেন, রাজকীয় দায়িত্বকে তিনি কখনো আড়ম্বর হিসেবে দেখেননি; বরং এটি মানুষের সেবায় ব্যবহারের এক বিশাল দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
একই বছরে রাজদম্পতি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রয়্যাল ইওয়েরে ফাউন্ডেশন’। সংস্থাটি শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবেশ—এই তিনটি খাতে কাজ করছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে নানা কর্মসূচি পরিচালনা করছে তারা।
সম্প্রতি ফাউন্ডেশনের ছয় মাসের ব্যবসা ও নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচি ‘এস্টাবলিশহার’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়—এ পর্যন্ত ৪৪ জন নারী আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের ব্যবসা নিবন্ধন করেছেন। অনেকেই নতুন গ্রাহক পেয়েছেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছেন এবং মেন্টরশিপ ও অর্থায়নের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১৫ কোটি নাইরা ঋণ তহবিলও গঠন করা হয়েছে।
রানি অলোরি আতুওয়াতসের বিশ্বাস, মানুষের চিন্তার পরিবর্তনই হতে পারে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি। নিজের মাতৃত্ব-পরবর্তী মানসিক উদ্বেগ কাটিয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তাঁকে নেতৃত্ব ও সমাজসেবা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে।
তিনি ও রাজা যৌথভাবে ‘এলিভেট আফ্রিকা ফেলোশিপ’ নামে ১০ মাসের একটি নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিও পরিচালনা করছেন। উদীয়মান আফ্রিকান নেতাদের গড়ে তুলতে এতে ১০ লাখ ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
রানি বলেন, ‘আফ্রিকা কোনো সমস্যা নয়, যার সমাধান খুঁজতে হবে। আফ্রিকা সম্পদে সমৃদ্ধ, সহনশীল এবং সম্ভাবনায় ভরপুর। আমাদের প্রকৃত উত্তরাধিকার হবে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও ক্ষমতাবান মানুষ তৈরি করা।’