হোম > বিশ্ব > আফ্রিকা

মাত্র ৩ বছরে উগান্ডার রাজা হওয়া ওয়ো নিয়িম্বা মারা গেলেন ৩৪-এ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ। ছবি: সিএনএন

উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোরো রাজ্যের রাজা ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৪ বছর। মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ শাসনরত রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সিএনএন জানায়, তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ক্যালভিন আর্মস্ট্রং রওমিরে আকিকি বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে রাজার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১০টায় রাজা মারা যান। তবে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি।

উগান্ডা একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং দেশটির নির্বাচিত সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করে। তবে দেশটিতে ঔপনিবেশিক যুগের আগের কাঠামোয় গড়ে ওঠা কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী রাজতন্ত্র এখনো বিদ্যমান। এসব রাজপরিবারের রাজনৈতিক ক্ষমতা মূলত প্রতীকী হলেও সমাজ ও সংস্কৃতিতে তাদের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

ওয়ো নিয়িম্বা ছিলেন উগান্ডার পশ্চিমাঞ্চলে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সীমান্তবর্তী ছোট্ট তোরো রাজ্যের শাসক। তাঁর পুরো নাম ছিল ওয়ো নিয়িম্বা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থ।

১৯৯৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, মাত্র তিন বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন। তাঁর বাবা রুকিরাবাসাইজা প্যাট্রিক ডেভিড ম্যাথিউ কাবোয়ো অলিমি তৃতীয়ের মৃত্যুর পর তাঁকে রাজা ঘোষণা করা হয়।

উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োয়েরি মুসেভেনির সরকারের মন্ত্রী বালাম বারুগাহারা রাজার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে জানিয়েছিলেন, রাজা যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তোরো রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী আকিকি একে ‘অপরিমেয় ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাজা অবিবাহিত হলেও তাঁর একজন উত্তরাধিকারী রয়েছেন এবং রাজমুকুটের উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত রয়েছে।

রাজার মৃত্যুতে উগান্ডাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতারাও। দেশটির প্রধান বিরোধী নেতা ও জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী থেকে রাজনীতিক হওয়া ববি ওয়াইন এক পোস্টে বলেন—এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক সংবাদ। তিনি রাজার আত্মার শান্তি কামনা করেন।

গত এপ্রিলে রাজার জন্মদিন উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তোরোর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ওয়ো ছিলেন তাঁর জনগণের বাস্তবতা ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত একজন রাজা। তারুণ্যকে তিনি দুর্বলতা নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখতেন—যা তোরোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সাহস ও সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।