মিসরের গিজা প্রদেশের একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রায় তিন বছর আগে ওই নারীর মৃত্যু হলেও এত দিন কেউ তা জানতে পারেনি। আদালতের নির্দেশে ফ্ল্যাটটি থেকে ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে তাঁর দেহাবশেষের সন্ধান পায় পুলিশ।
রোববার (৮ নভেম্বর) গালফ নিউজ জানায়, গিজার আল হারাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই ফ্ল্যাটের মালিকের সঙ্গে ভাড়াটিয়ার দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে বিরোধ চলছিল। কয়েক বছর ধরে ভাড়া পরিশোধ না করায় ফ্ল্যাটের দখল ফিরে পেতে আদালতের শরণাপন্ন হন বাড়ির মালিক। পরে আদালতের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকর করতে সেখানে যায় পুলিশ।
ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে একটি কক্ষে মানুষের কঙ্কাল দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। পরে তদন্তে জানা যায়, দেহাবশেষটি ওই ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ার। তিনি পেশায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছিলেন। এ ছাড়া তিনি মিসরের সাবেক এক মন্ত্রীর বোন।
তিন বছর আগেই মৃত্যু
ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, ওই চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছিল প্রায় তিন বছর আগে। পরীক্ষায় তাঁর মৃত্যুর কারণ স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ওপর কোনো হামলা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পুলিশি তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর দক্ষিণ গিজার পাবলিক প্রসিকিউশন কার্যালয়ও এই ঘটনায় অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়নি। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেহাবশেষ দাফনের অনুমতি দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তবে প্রায় তিন বছর ধরে একজন মানুষের মরদেহ কীভাবে নিজের বাসায় পড়ে থাকল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই চিকিৎসক একাই ফ্ল্যাটটিতে বসবাস করতেন। তাঁর অনুপস্থিতি কিংবা দীর্ঘদিন যোগাযোগহীন থাকার বিষয়টি কারও নজরে আসেনি।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, তাঁর মৃত্যুর খবর পুলিশ জানতে পারে কোনো নিখোঁজ সংবাদ বা স্বজনের অভিযোগের ভিত্তিতে নয়। বাড়ির মালিকের করা মামলায় আদালতের উচ্ছেদ আদেশ কার্যকর করতে গিয়েই সামনে আসে তিন বছর আগের এই মৃত্যুর ঘটনা।