লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অপহরণের শিকার ১৩ বাংলাদেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সি (পূর্ব ত্রিপোলি শাখা)। একই সঙ্গে অপহৃত ব্যক্তিদের একটি গোপন আস্তানায় জিম্মি করে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লিবিয়া অবজারভারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আদালত বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
লিবিয়া অবজারভার অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, সম্প্রতি ত্রিপোলিতে সদ্য আসা অভিবাসীদের অপহরণ করে তাঁদের পরিবারকে ব্ল্যাকমেল ও মুক্তিপণ দাবি করে আসছে একটি সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্র—এমন গোপন তথ্য আসে সংস্থাটির ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অ্যারেস্ট ইউনিটের কাছে।
তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর সংস্থাটি তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত শুরু করে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে এবং জিম্মিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে নজরদারি জোরদার করে। একপর্যায়ে তদন্ত দল অপহৃত বাংলাদেশিদের অবস্থান ও এই অপরাধের পেছনে থাকা মূল সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
অ্যান্টি-ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন এজেন্সি জানিয়েছে, পাবলিক প্রসিকিউশনের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার পর তারা সরাসরি চিহ্নিত আস্তানায় অভিযান চালায়। পরে সেখান থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা ১৩ জন বাংলাদেশি নাগরিককে উদ্ধার করে এবং এর সঙ্গে জড়িত এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সিরীয় নাগরিক অপহরণ ও জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর জবানবন্দি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।