কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে আম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কের বাইরে ১৫টি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় কীটনাশক ছিটানো টমেটো খাওয়ার বিষয়টি সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় খামারে কীটনাশক প্রয়োগ করা টমেটো খাওয়ার পরই হাতিগুলো বিষক্রিয়ায় মারা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, হাতিগুলোর মৃতদেহ থেকে সংগ্রহ করা নমুনার প্রাথমিক পরীক্ষায় সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তারা জানান, মৃত হাতিগুলোর মধ্যে ১০ টির শরীরে পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। এরপর দুই দিনের মধ্যে সেগুলো মারা যায়। বাকি পাঁচটি হাতিকে উদ্ধারের সময়ই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিবিসি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তবে আপাতত বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা পরিকল্পিতভাবে হাতিগুলোকে হত্যার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। জনমনে উদ্বেগ কমাতে কর্মকর্তারা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হাতিগুলো যে বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে থাকতে পারে, তাতে মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি নেই।
এই ঘটনা আম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কের আশপাশে কৃষিকাজ সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। খাদ্য ও পানির সন্ধানে হাতিরা প্রায়ই পার্কের সীমানা পেরিয়ে আশপাশের কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে। ফলে ফসল ও হাতির মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।
পার্ক ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে আম্বোসেলি ইকোসিস্টেম বলা হয়। তানজানিয়ার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা বন্যপ্রাণীর জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েক দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে একসঙ্গে এত হাতির মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম। অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোরাশিকার দমনে সফলতা অর্জন করেছে কর্তৃপক্ষ।
মৃত হাতিগুলোর মধ্যে বিভিন্ন বয়স ও লিঙ্গের হাতি রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিবার বা বয়সভিত্তিক গোষ্ঠীর মধ্যেই এই মৃত্যুর ঘটনা সীমাবদ্ধ নয়।
কেডব্লিউএস জানিয়েছে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে এক মাস সময় ধরে হাতিগুলোর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
হাতিদের চলাচল পর্যবেক্ষণকারী আম্বোসেলি ট্রাস্ট ফর এলিফ্যান্টসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল পর্যন্ত আম্বোসেলি ইকোসিস্টেমে ২ হাজারের বেশি হাতি ছিল।