হোম > স্বাস্থ্য > স্বাস্থ্য-গবেষণা

নিপসমের জাতীয় গবেষণা

যৌথ সিদ্ধান্তে শক্তিশালী পরিবার, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় প্রয়োজন সুশাসন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) দুটি জাতীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। আজ রাজধানীর মহাখালীতে নিপসম অডিটোরিয়ামে। ছবি: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

পারস্পরিক সম্মান, কার্যকর যোগাযোগ ও যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি পরিবারের সংহতি ও স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করে। একই সঙ্গে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ক্লিনিক্যাল সেবার ভিত্তি সন্তোষজনক হলেও সুশাসন, ব্যবস্থাপনা, জনবল ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিনের (নিপসম) দুটি জাতীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর মহাখালীতে নিপসম অডিটোরিয়ামে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের গবেষণার ফলাফল ও নীতিগত সুপারিশ তুলে ধরা হয়। একটি গবেষণায় দাম্পত্য সম্পর্ক ও পারিবারিক সংহতির সম্পর্ক, অন্যটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুশাসনের চিত্র উঠে আসে।

দাম্পত্য সম্পর্ক ও পারিবারিক সংহতি

‘ম্যারিটাল ডাইনামিক্স অ্যান্ড ফ্যামিলি কোহিশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণার প্রধান গবেষক ছিলেন নিপসমের সহযোগী অধ্যাপক ড. শাহরিয়া সাত্তার। সহ-গবেষক ছিলেন ড. মো. আশরাফুল আলম, ড. এস. এম. শারাফ উল আলম এবং ড. শুভ তিথি গোস্বামী।

আট বিভাগের শহর ও গ্রামের ১ হাজার ৬৪০ জন বিবাহিত নারী-পুরুষের ওপর পরিচালিত এ গবেষণাকে গবেষকেরা দেশের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণা বলে দাবি করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, দাম্পত্য সম্পর্কের মান ও পারিবারিক সংহতির মধ্যে শক্তিশালী ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। পারস্পরিক সম্মান, মানসিক সমর্থন, কার্যকর যোগাযোগ ও যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ সুদৃঢ় পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রধান গবেষক ড. শাহরিয়া সাত্তার বলেন, ‘সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল পরিবারের ভিত্তি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্ক। পারস্পরিক সম্মান, কার্যকর যোগাযোগ, যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও আবেগগত সমর্থন পরিবারের সংহতিকে আরও শক্তিশালী করে।’

গবেষণায় প্রাক-বিবাহ ও বিবাহোত্তর কাউন্সেলিং সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় কমিউনিটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও আয়বর্ধক কর্মসূচি জোরদার এবং জাতীয় পরিবারকল্যাণ ও জনস্বাস্থ্য নীতিতে ’পারিবারিক সংহতি’ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুশাসনের ঘাটতি

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুশাসনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে পরিচালিত দেশের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গবেষণার ফলও প্রকাশ করা হয় এ দিন। এর প্রধান গবেষক ছিলেন নিপসমের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হাসান রিফাত। সহ-গবেষক ছিলেন অধ্যাপক ডা. এ. এন. এম. সামসুল ইসলাম ও ড. জায়েদা জালাল সরকার।

আট বিভাগ, ১৬টি জেলা ও ৪৮টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২৮৬ জন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপক ও কমিটি সদস্যের ওপর জরিপ এবং ১৮ জন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যদাতার বিশদ সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুশাসনের ১৬টি ডোমেইনের মধ্যে ১৩টিতে সন্তোষজনক চর্চা রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার প্রতিক্রিয়াশীলতা, ন্যায্যতা, আইন ও বিধিবিধান প্রতিপালন, নেতৃত্ব এবং মৌলিক ক্লিনিক্যাল সেবার ক্ষেত্রে তুলনামূলক ভালো অবস্থান পাওয়া গেছে। তবে অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গুণগত মান উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে তথ্যের ব্যবহার এবং জনবল সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে তথ্য সংগ্রহ করা হলেও স্থানীয় পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেগুলোর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হয়নি। গবেষকদের মতে, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্লিনিক্যাল ভিত্তি শক্তিশালী। এখন প্রয়োজন সুশাসন, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সেই ভিত্তিকে আরও কার্যকর ও টেকসই করা।

গবেষণায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপকদের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ, স্থানীয় পর্যায়ে জনবল ব্যবস্থাপনায় অধিক ক্ষমতা, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, বাজেট ও ব্যয়ে স্বচ্ছতা, স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমিটিকে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ‘জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসকদের ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বাড়াতে সাভারে নির্মিত হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট দ্রুত চালু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু চিকিৎসক নিয়োগ নয়, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকদের পেশাগত ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশের সব ৩০ ও ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবহার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য পরিকল্পনা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, গবেষক ও শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

শৈশবে চিনি কম খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমে

প্রতিদিন ৫ কাপ কফি পান কমায় স্ট্রোক-হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি, মার্কিন চিকিৎসকদের দাবি

চাকরিতে নাইট ডিউটি: মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি, সুস্থ থাকার দাওয়াই দিলেন বিজ্ঞানীরা

খুশির চোটে মরতে বসেছেন নারী, বিরল সমস্যার সন্ধান পেলেন চিকিৎসকেরা

সামাজিক মাধ্যমে কিশোরদের নিষেধাজ্ঞায় ‘উল্টো ক্ষতি’ হতে পারে—বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

একে অন্যকে ‘প্রোটিন’ পাঠিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক থেকে বাঁচে ব্যাকটেরিয়া, চাঞ্চল্যকর দাবি

প্রতি ৫ জনে একজন আক্রান্ত হবেন ক্যানসারে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভয়াবহ সতর্কবার্তা

বেশি ঘুমও কি কম ঘুমের মতোই ক্ষতিকর

দ্রুত বুড়িয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম—আছে ক্যানসার বাড়ার যোগসূত্রও

স্ট্রোকে মস্তিষ্কের ক্ষতি কমানোর উপায় খুঁজে পেয়েছেন চীনা গবেষকেরা