ব্যস্ত জীবনের দোহাই দিয়ে অনেকে প্রতিদিনের ব্যায়াম এড়িয়ে চলেন। তাঁদের জন্য অবিশ্বাস্য ও বিজ্ঞানসম্মত খবর নিয়ে এসেছেন গবেষকেরা। এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেড় ঘণ্টার দীর্ঘ মাঝারি শারীরিক পরিশ্রমের চেয়ে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের তীব্র বা উচ্চমাত্রার এক্সারসাইজ শরীরের জন্য অনেক বেশি কার্যকর ও স্বাস্থ্যসম্মত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রকফেলার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের করা গবেষণাটি বিশ্বখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞান সাময়িকী ‘সেল রিপোর্টার্স মেডিসিন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার প্রধান লেখক ডা. পল কোহেন বলেন, ‘মাত্র কয়েক মিনিটের তীব্র শারীরিক ব্যায়াম শরীরের ভেতরে যে গভীর আণবিক সাড়া তৈরি করে, তা সত্যিই চমকপ্রদ।’
সাধারণত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ থাকে সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা বা মাঝারি গতিতে দৌড়ানো বা সাইকেল চালানোর। তবে রকফেলার ইউনিভার্সিটির এই গবেষণায় ভিন্ন একটি পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষকেরা এক্সারসাইজ বাইকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য সর্বোচ্চ শক্তিতে ৬টি দ্রুত স্প্রিন্ট দিতে বলেন। সেখানে প্রতিটির মাঝে ৪ মিনিটের বিশ্রাম। অর্থাৎ আধা ঘণ্টার মধ্যে সব মিলিয়ে তীব্র কসরতের সময় ছিল মাত্র ৩ মিনিট। এতে দেখা যায়, এই ৩ মিনিটের তীব্র ব্যায়াম মানবদেহের ৭১৪টি রক্তের প্রোটিনে দ্রুত এবং ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। যেখানে দুই ঘণ্টার মাঝারি গতির ট্র্রেডমিল দৌড় কিংবা সাধারণ সাইক্লিং মাত্র কয়েকটি প্রোটিনকে প্রভাবিত করতে পেরেছে। ল্যাব পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৩০ সেকেন্ডের স্প্রিন্ট সাইক্লিংয়ের পর সংগৃহীত রক্ত মানুষের চর্বি কোষের ১ হাজার ৬০০টির বেশি জিনকে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করেছে। যেখানে মাঝারি ব্যায়ামে তা ছিল মাত্র ২৫টি।
আমাদের রক্তে থাকা প্রোটিনগুলো পুষ্টি উপাদান ও হরমোন শরীরের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত করে এবং সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করে। যখন মাত্র ৩০ সেকেন্ডের জন্য শরীরকে চূড়ান্ত চাহিদার মুখে ফেলা হয়, তখন হৃৎপিণ্ডের পেশি শরীরের বাকি অংশের সঙ্গে দ্রুত সংকেত আদান-প্রদান করতে বাধ্য হয়। ফলে কোষে কোষে একধরনের ‘সিগন্যালিং মলিকিউল’ ছড়িয়ে পড়ে, যা শক্তি খরচ এবং টিস্যু মেরামতের হার বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি এটি ‘ল্যাক-ফে’ নামক একটি অণুর মাত্রা বাড়ায়, যা ক্ষুধার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।
যুক্তরাজ্যের ইউকে বায়োব্যাংকের ৫৩ হাজার মানুষের স্বাস্থ্য তথ্যের সঙ্গে গবেষণালব্ধ প্রোটিন লেভেল তুলনা করে গবেষকেরা দেখেছেন, এ ধরনের সংক্ষিপ্ত তীব্র ব্যায়াম হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়। বিশেষ করে স্থূলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক সমস্যা প্রতিরোধে এই স্প্রিন্ট থিওরি অভাবনীয় কাজ করে।
সূত্র: ডেইলি মেইল