হোম > স্বাস্থ্য

প্রথমবারের মতো গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সফল রক্ত সঞ্চালন

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল। ছবি: সংগৃহীত

দেশে প্রথমবারের মতো গর্ভের শিশুর শরীরে সফলভাবে রক্ত সঞ্চালন (ইন্ট্রা-ইউটেরিন ফিটাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন) করা হয়েছে। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটে গত ২৯ জুন জটিল এই চিকিৎসাপদ্ধতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

চিকিৎসকেরা জানান, মা ও গর্ভস্থ শিশুর রক্তের গ্রুপজনিত অসামঞ্জস্যসহ বিভিন্ন কারণে ভ্রূণের শরীরে মারাত্মক রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে তার জীবন রক্ষায় এই চিকিৎসা দেওয়া হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে গর্ভের ভেতরে শিশুর নাভির রক্তনালি শনাক্ত করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন করা হয়।

এই চিকিৎসা কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিটের প্রধান ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা আফরোজ, অধ্যাপক ডা. ইসরাত জাহান এবং অধ্যাপক ডা. খালেদুন্নেসা। এ ছাড়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আইনুল ইসলাম খান, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. রেহান উদ্দিন খান, ডা. নোমান, ডা. শরীফ, রক্ত সঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান এবং হেমাটোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মির্জা গোলাম সারওয়ার চিকিৎসা কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।

ডা. খন্দকার শেহনীলা তাসমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘দেশে এর আগে শুধু বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন ইউনিট ছিল। চলতি বছরের মার্চে তৃতীয় সরকারি হাসপাতাল হিসেবে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ ইউনিট চালু করা হয়। এর আগে একটি বেসরকারি হাসপাতালে দুইবার এই পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। সে হিসাবে দেশে এই প্রথম গর্ভস্থ শিশুর শরীরে সফলভাবে রক্ত সঞ্চালন সম্ভব হয়েছে। যে প্রসূতির গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে, এটি তাঁর তৃতীয় সন্তান। এর আগে একই ধরনের জটিলতায় তাঁর দুটি সন্তান মারা যায়। এবার আমরা সফলভাবে চিকিৎসাটি সম্পন্ন করতে পেরেছি।’

ফিটো-ম্যাটার্নাল মেডিসিন সম্পর্কে ডা. শেহনীলা বলেন, ‘এটি প্রসূতিবিদ্যার একটি বিশেষায়িত শাখা, যেখানে গর্ভধারণের আগে, গর্ভাবস্থায় এবং প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্য এবং জটিলতা নিয়ে কাজ করা হয়। মূলত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার ব্যবস্থাপনাই এ শাখার প্রধান কাজ। আমরা বাংলাদেশে এই সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চাই। কিডনি রোগ, কিডনি প্রতিস্থাপনসহ জটিল রোগে আক্রান্ত নারীরা যাতে নিরাপদে মাতৃত্বের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন, সে জন্য এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত প্রয়োজন।’

চিকিৎসকদের ভাষ্য, গর্ভস্থ শিশুর শরীরে রক্ত সঞ্চালন একটি অত্যাধুনিক ও জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাপদ্ধতি। মা ও ভ্রূণের রক্তের আরএইচ গ্রুপজনিত অসামঞ্জস্য, ভ্রূণের তীব্র রক্তস্বল্পতা, শরীরে অস্বাভাবিকভাবে পানি জমে যাওয়া (ফিটাল হাইড্রপস) কিংবা অন্য কোনো কারণে গুরুতর রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে এই চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। সময়মতো এ চিকিৎসা দেওয়া গেলে গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এবং নিরাপদভাবে গর্ভকাল আরও কিছুদিন বাড়ানো সম্ভব হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সাফল্যের ফলে রক্তের গ্রুপজনিত জটিলতাসহ গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত গর্ভবতী নারীরা এখন সরকারি হাসপাতালেই উন্নতমানের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জন্মের আগেই রোগ নির্ণয়, আধুনিক ফিটাল চিকিৎসা এবং মা ও অনাগত শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত সেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণে কাজ করে যাবে হাসপাতালটি।

ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৬৩

বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৭১৮

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ার-বিষয়ক ২০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১৬

বেশি ঘুমও কি কম ঘুমের মতোই ক্ষতিকর

ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু

ব্রিটেনে শিশুদের মধ্যে উৎকণ্ঠার ‘মহামারি’, মানসিক চিকিৎসা নিয়েছে ১০ লাখ

হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৪ জনের, মোট মৃত্যু ৭১২

চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ রোগীকে বহন করতে হয়: সংসদে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী