নিয়মিত ক্লান্তি, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন কিংবা বারবার প্রস্রাবের মতো সমস্যাগুলোকে অনেকে বয়সের প্রভাব বা দৈনন্দিন চাপের ফল বলে মনে করেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এসব উপসর্গ কখনো কখনো ক্যানসারের প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো হেলথ ক্যানসার ইনস্টিটিউটের অনকোলজিস্ট ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাদ শাহুদ বলেন, অনেক রোগী ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারেন যে রোগের লক্ষণ কয়েক সপ্তাহ বা মাস আগে থেকেই ছিল। কিন্তু তাঁরা সেগুলোকে বয়স, মানসিক চাপ, কাজের চাপ, পুরোনো আঘাত বা অন্য সাধারণ সমস্যার কারণে হয়েছে বলে ধরে নিয়েছিলেন।
জাদ শাহুদের মতে, নতুন কোনো উপসর্গ যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হয় এবং তার স্পষ্ট কারণ খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডা. শাহুদ পাঁচটি উপসর্গের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো মানুষ প্রায়ই অবহেলা করে।
প্রথমত, অস্বাভাবিক ক্লান্তি। ব্যস্ত জীবনযাপন, মানসিক চাপ বা বয়স বৃদ্ধির কারণে ক্লান্তি স্বাভাবিক মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্রামেও না কমা ক্লান্তি কোলন, কিডনি কিংবা রক্তের ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস। কোনো ডায়েট বা ব্যায়াম ছাড়াই ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শরীরের ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে গেলে তা সতর্কসংকেত হতে পারে। অগ্ন্যাশয়, ফুসফুস, পাকস্থলী ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন। কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার পেছনে খাদ্যাভ্যাস দায়ী হতে পারে, তবে মলের আকার, ঘনত্ব বা মলত্যাগের নিয়মে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন কলোরেক্টাল ক্যানসারের ইঙ্গিতও দিতে পারে। বিশেষ করে খুব সরু বা পেনসিলের মতো মল হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
চতুর্থত, মূত্রত্যাগসংক্রান্ত সমস্যা। ঘন ঘন প্রস্রাব, রাতে বারবার ঘুম ভেঙে প্রস্রাব করতে যাওয়া কিংবা প্রস্রাবে রক্ত দেখা অনেক সময় বয়স্কদের সাধারণ সমস্যা বলে মনে করা হয়। তবে এগুলো মূত্রথলি, কিডনি বা প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে।
পঞ্চমত, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা। বিশেষ করে পিঠ, হাড় বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে ক্রমে বাড়তে থাকা ব্যথা কখনো কখনো ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ডা. শাহুদ বলেন, ‘বয়স বাড়া মানেই স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি নয়।’ তিনি বলেন, একটিমাত্র উপসর্গ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে কোনো সমস্যা যদি দীর্ঘদিন থাকে, ক্রমেই বাড়তে থাকে বা ওজন কমে যাওয়া, রক্তপাত, স্থায়ী ক্লান্তি কিংবা শারীরিক সক্ষমতা হ্রাসের মতো অন্য লক্ষণের সঙ্গে দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসার যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি। তাই শরীরের পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।