এবারের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মান অত্যন্ত ভালো বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগারে মান যাচাইয়ের পর ইউনিসেফের মাধ্যমে এই উন্নতমানের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেশে আনা হয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, “আগের সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলও পাওয়া যায়নি। পরে ইউনিসেফের সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারের কাছে লাল ও নীল—দুই ধরনের মোট ২ কোটি ৬০ লাখ ক্যাপসুল রয়েছে। এবারের কর্মসূচিতে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।”
আজ রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জন্মের পরপরই শিশুকে শালদুধ খাওয়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শালদুধের চেয়ে বড় ভিটামিন আর কিছু হতে পারে না। নবজাতকের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তুলতে মায়ের শালদুধের কোনো বিকল্প নেই।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ালেই হবে না, শিশুকে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। জন্মের পরপর শালদুধ পান করানোর পাশাপাশি বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ পানি, সুষম খাদ্য এবং উপযুক্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি। এতে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ‘এ’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লক্ষ্যভুক্ত সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ক্যাম্পেইনের সময়সীমা ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে একযোগে এ কর্মসূচি চলছে। কোনো শিশু যেন বাদ না পড়ে, সে জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রথম দিন কোনো শিশু বাদ পড়লে দ্বিতীয় দিন তাকে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে চতুর্থ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, অধ্যাপক ডা. ফোয়ারা তাসনিম এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইউসুফ আলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সারা দেশে ক্যাম্পেইন চলবে। এ উপলক্ষে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী কেন্দ্র এবং ৫০০টি ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।