বাসার যাবতীয় কাজ নিজেই করতে পছন্দ করেন করিম সাহেব। কিন্তু কিছুদিন ধরে খেয়াল করছেন, ভেজা কাপড় চেপার সময় বা স্ক্রু-ড্রাইভার চালানোর সময় কনুইয়ের বাইরের দিকে চিনচিনে ব্যথা হয়। ব্যথাটা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় তিনি একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসক জানালেন, করিম সাহেবের ‘টেনিস অ্যালবো’ হয়েছে। অবাক হয়ে করিম সাহেব ভাবছেন, উনি তো কখনো টেনিস খেলেন না, টেনিস অ্যালবো হলো কীভাবে!
আসলে বিষয়টা কী
আমাদের বাহুর বড় হাড়টির নাম হিউমেরাস। হিউমেরাসের নিচের অংশে কনুইয়ের বাইরের দিকে উঁচু হয়ে থাকা হাড়ের অংশটির নাম ল্যাটেরাল এপিকন্ডাইল। কনুই ও কবজি নড়াচড়ার অনেক মাংসপেশি ও টেন্ডন এই ল্যাটেরাল এপিকন্ডাইলের সংস্পর্শে থাকে। অতিরিক্ত কাজ বা নড়াচড়ার কারণে এই সংস্পর্শী মাংসপেশি ও টেন্ডনে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা তৈরি হয়। এই অবস্থাকেই ল্যাটেরাল এপিকন্ডাইলাইটিস বা টেনিস অ্যালবো বলে। টেনিস খেলোয়াড়দের এই রোগ বেশি হলেও সবারই আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আছে এতে। রঙের মিস্ত্রি, কাঠের মিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান এমনকি ঘরোয়া কাজে যাঁদের নিবাহু বা ফোরআর্মের কাজ বেশি, তাঁরা সচরাচর আক্রান্ত হন টেনিস অ্যালবোতে। এমনকি বিখ্যাত ক্রিকেট খেলোয়াড় শচীন টেন্ডুলকারও আক্রান্ত
ছিলেন এতে।
লক্ষণ
রোগ নির্ণয়
এ রকম ব্যথা অনেক রোগেই হতে পারে, তাই সব দিক খেয়াল রেখে ডায়াগনসিস করতে হবে।
টেনিস এলবো সনাক্তের জন্য এই দুটো পরীক্ষাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। এ ছাড়া মাস্কুলোস্কেলেটাল আলট্রাসনোগ্রাম ও কনুইয়ের এমআরআইও করাতে হবে।
চিকিৎসা
এ ছাড়া পিআরপি চিকিৎসা ও ফিজিওথেরাপিও দিতে হবে। প্রয়োজন হলে অপারেশন করাতে হবে। যা-ই করুন না কেন, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে করতে হবে।
লেখক: মেডিকেল অফিসার, অর্থোপেডিকস, মা ও শিশু মেডিকেল কলেজ