প্রায় ১৪ মাস পর দেশে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হলো। অন্ধত্ব প্রতিরোধ ও শিশুদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ কোটি ৩৫ লাখের বেশি শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে আজ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মন্ত্রণালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, নির্ধারিত দিনে কোনো কারণে কোনো শিশু ক্যাপসুল গ্রহণ থেকে বাদ পড়লে পরদিন উপজেলা পর্যায়ে তা দেওয়া হবে। আর দুর্গম এলাকায় পরবর্তী চার দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন উপলক্ষে সারা দেশে ১ লাখ ২০ হাজার কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, রেলস্টেশন, বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ৫০০টি মোবাইল কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
ড. এম এ মুহিত বলেন, ১৯৯৫ সালে জাতীয় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন শুরু হয়। শুধু অন্ধত্ব দূর করা বা অপুষ্টি কমানো নয়, শিশুমৃত্যুর হার কমাতেও ভিটামিন এ ক্যাপসুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এম এ মুহিত জানান, ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয় না। কারণ, তারা বুকের দুধ থেকে ভালো পরিমাণে ভিটামিন এ পেয়ে থাকে। এ বছরের দ্বিতীয় রাউন্ড ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতা দূর করতে বাংলাদেশে ১৯৭৩ সাল থেকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো শুরু হয়। তখন এটি ‘জাতীয় রাতকানা রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রম’ নামে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সালে কার্যক্রমটি আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় টিকাদান দিবসের সঙ্গে ভিটামিন এ কর্মসূচি যুক্ত করা হয়। পরে ২০০৩ সাল থেকে এর নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন’। ২০১১ সালে এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পুষ্টিসেবা (এনএনএস) কার্যক্রমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।