বাংলাদেশে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বর্তমানে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট (এইচটিপি) ও নিকোটিন পাউচের মতো উদীয়মান তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য ব্যবহার করছেন। তরুণদের মধ্যে এসব পণ্যের বিস্তার রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন।
ঢাকার সিআইআরডিএপি অডিটোরিয়ামে আজ বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত এক গবেষণা ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আওয়াল রিজভী।
অনুষ্ঠানে প্রকাশিত ‘এমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট ইউজ অ্যামাং বাংলাদেশি ইয়ুথ’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত অনলাইনে ৫২৪ জন তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষণাটি করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, জরিপে অংশ নেওয়া ২৮ দশমিক ১ শতাংশ তরুণ জীবনের কোনো এক সময়ে এসব পণ্যের অন্তত একটি ব্যবহার করেছেন। বর্তমানে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া ১ দশমিক ৩ শতাংশ নিকোটিন পাউচ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ তরুণ হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট ব্যবহার করছেন।
গবেষণার ফলাফল তুলে ধরে বলা হয়, এসব পণ্যের সহজলভ্যতা ও বিপণন তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বর্তমানে এসব পণ্য ব্যবহারকারীদের মাত্র ২৪ দশমিক ১ শতাংশকে কেনার সময় বয়সের প্রমাণ দিতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ২৬ শতাংশ তরুণ দোকান বা বিক্রয়কেন্দ্রে এবং ২০ দশমিক ৮ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এসব পণ্যের সহজলভ্যতা ও বিপণন তরুণদের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং নিকোটিনে আসক্তি বাড়াতে পারে। গবেষণার ফলাফল তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করতে পারে। তরুণদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।