হোম > স্বাস্থ্য

সাবেক রাষ্ট্রপতির অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগটি কী, কেন হয় এবং লক্ষণ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, সম্প্রতি তাঁর অটোনমিক নিউরোপ্যাথি (Autonomic Neuropathy) শনাক্ত হয়েছে। তিনি লিখেছেন, এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিকের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন। এর পাশাপাশি আরও গুরুতর স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি পদত্যাগ করেছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি কী, কেন হয় এবং এটি শরীরে কী ধরনের প্রভাব ফেলে? চলুন জেনে নেই—

অটোনমিক নিউরোপ্যাথি হলো এমন একটি স্নায়ুরোগ, যেখানে অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেমের (Autonomic Nervous System) স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই স্নায়ুতন্ত্র মানুষের শরীরের এমন সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলে এবং সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। এর মধ্যে রয়েছে—হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, শ্বাস-প্রশ্বাসের কিছু কার্যক্রম, হজমপ্রক্রিয়া, মূত্রথলি ও অন্ত্রের কার্যক্রম, ঘাম হওয়া, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, চোখের মণির প্রতিক্রিয়া ও যৌন কার্যক্ষমতা। এই স্নায়ুগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

কেন হয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগের প্রধান কারণ। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া আরও যেসব কারণে এ রোগ হতে পারে, সেগুলো হলো—দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, পারকিনসনস রোগসহ কিছু স্নায়বিক রোগ, অ্যামাইলয়ডোসিস, অটোইমিউন রোগ (যেমন; সজোগ্রেন সিনড্রোম, লুপাস), দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপান, কিছু সংক্রমণ (যেমন; এইচআইভি), ক্যানসার বা ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ ও কিছু বংশগত স্নায়ুরোগ।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে

রোগের লক্ষণ নির্ভর করে শরীরের কোন স্নায়ু বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ওপর। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়া (অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন), মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হৃৎস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, অতিরিক্ত বা খুব কম ঘাম হওয়া, হজমে সমস্যা, বমি বমি ভাব বা কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, রাতে মূত্রথলি পুরোপুরি খালি করতে না পারা বা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, যৌন সক্ষমতায় সমস্যা ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অসুবিধা।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা ‘মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই’ উপসর্গটি অনেক ক্ষেত্রে দাঁড়ানোর সময় রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়ার কারণে হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

চিকিৎসকেরা রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন পরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করেন। এর মধ্যে থাকতে পারে—রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দনের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ, ইসিজি, টিল্ট টেবিল টেস্ট, ঘাম পরীক্ষা, হজম ও মূত্রথলির কার্যকারিতা মূল্যায়ন, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগ শনাক্তে রক্ত পরীক্ষা।

চিকিৎসা কী

অটোনমিক নিউরোপ্যাথির নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো রোগের কারণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং উপসর্গ কমানো। যেমন—

ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা

প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ

হজম বা মূত্রথলির সমস্যার চিকিৎসা

পর্যাপ্ত পানি পান ও জীবনযাপনে পরিবর্তন

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পর্যবেক্ষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগটি যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, ততই জটিলতা কমানোর সুযোগ বাড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড সংক্রমণ, ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ মৃত্যু

ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৪৫০

কৈশোর স্বাস্থ্যসেবায় ভিপিএল মডেল অন্তর্ভুক্তির তাগিদ

হামের উপসর্গে মৃত্যু আরও ২, মোট ৮০৫

প্রতিদিন ৫ কাপ কফি পান কমায় স্ট্রোক-হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি, মার্কিন চিকিৎসকদের দাবি

হামে মৃত্যু ৮০০ ছাড়াল

হামের প্রাদুর্ভাব: উপসর্গে মৃত্যু আরও ৪, মোট ৭৯৭

হামের উপসর্গে মৃত্যু আরও ৫, মোট ৭৯৩

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩৭২