হোম > স্বাস্থ্য

বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস: বছরে শনাক্ত ৩ হাজারের বেশি নতুন কুষ্ঠ রোগী

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎

দেশে এখনো বছরে নতুন করে ৩ হাজারের বেশি কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এতে ২০৩০ সালের মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ব কুষ্ঠ দিবস উপলক্ষে গতকাল রোববার ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় এ-সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।

জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানটির প্রতিপাদ্য ছিল, ‘কুষ্ঠ রোগ নিরাময়যোগ্য, সামাজিক কুসংস্কারই প্রকৃত বাধা।’

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে একটির কম কুষ্ঠ রোগী থাকাকে নির্মূল হওয়া বোঝায়। কুষ্ঠের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালেই এই মানদণ্ডে পৌঁছায়। কিন্তু বর্তমানে দেশের অন্তত ১৩টি জেলা এখনো কুষ্ঠ রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব জেলায় রোগী শনাক্তের হার দেশের অন্য অঞ্চলের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি।

দিবসটি উপলক্ষে সকাল নয়টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষ ‘মেলাঘর’-এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকজন কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এতে অংশ নেন।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাইকোব্যাকটেরিয়াল ডিজিজ কন্ট্রোলের (এমবিডিসি) সহকারী পরিচালক ও জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক ডা. আফসানা আলমগীর খান। তিনি জানান, জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি ১৯৮৫ সালে নির্বাচিত কয়েকটি এলাকায় শুরু হয় এবং ১৯৯৬ সালে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়। ফলে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ কুষ্ঠ রোগ নির্মূলের মানদণ্ডে পৌঁছায়।

ডা. আফসানা আলমগীর খান জানান, পরিসংখ্যানের হিসাবে মানদণ্ডে পৌঁছালেও বাস্তবে কুষ্ঠ রোগ পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। বর্তমানে দেশের ১৩টি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। সেখানে রোগী শনাক্তের হার প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যায় ৫ জন পর্যন্ত।

ডা. আফসানা জানান, ২০২৫ সালের প্রথম ৯ মাসে ২ হাজার ৬৪০ জন নতুন কুষ্ঠ রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৩ সালে নতুন রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ৫১৯ এবং ৩ হাজার ৬৩৯ জন।

জাতীয় কুষ্ঠ রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যবস্থাপক এই চিকিৎসক বলেন, ‘জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থার সহায়তায় রোগী শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০২৩-২০৩০ মেয়াদের জন্য জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ও হালনাগাদ চিকিৎসা নির্দেশিকা থাকলেও বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

ডা. আফসানা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, নজরদারি ও মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ নেই। অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সেক্টরভিত্তিক কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সহায়তায় সীমিত আকারে কার্যক্রম চলছে।

আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ রোগের চেয়ে বড় সমস্যা এখনো থেকে যাওয়া সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য। কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক ক্ষেত্রে সমাজে অপবাদ ও অবহেলার শিকার। এ কারণে অনেকে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আসেন না।

বক্তারা অভিমত দেন, ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগ শূন্যে নামিয়ে আনার বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এবং দুর্গম এলাকায় বিশেষ স্ক্রিনিং ক্যাম্প, নিয়মিত বিস্তারের গতিপথ চিহ্নিত করা (‘কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং’) এবং সামাজিক সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক কুসংস্কার দূর করাও সমানভাবে জরুরি।

নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ: মৃত্যুহার বেড়ে শতভাগে উঠেছে

মাদকাসক্তদের এক-তৃতীয়াংশ ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী, গাঁজা ব্যবহার সবচেয়ে বেশি: জরিপ

বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পেয়েও কেন পেশা ছাড়ছেন মার্কিন চিকিৎসকেরা

দাঁত সুরক্ষায় ভুল ধারণা এবং সঠিক পরিচর্যা

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের চাবিকাঠি আঁশযুক্ত খাবার

কোন খাবার ফ্রিজে রাখবেন না

অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের সমাধান ডিজিটাল ডিটক্স

র‍্যামজি হান্ট সিনড্রোমের লক্ষণ ও চিকিৎসা

নীলফামারীতে হাসপাতাল প্রকল্প: উত্তরের চিকিৎসাসেবার নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

পেশি থাকবে অটুট, কমবে চর্বিও—বয়স্কদের সবচেয়ে কার্যকর ব্যায়াম নাকি ‘এইচআইআইটি’