ইতালিয়ান বা মেডিটেরানিয়ান খাবারে প্রিয় উপকরণ অরিগানো। বিশ্বজুড়ে রন্ধনশিল্পে এটি সুপরিচিত ভেষজ উপাদান। পিৎজা, পাস্তা কিংবা এই ধরনের খাবারগুলোতে প্রায়ই আমরা অরিগানোর উপস্থিতি পাই। খাবার সুস্বাদু করার পাশাপাশি এতে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। যেমন মাত্র এক চা-চামচ শুকনো অরিগানো থেকে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ভিটামিন কে-এর ৫ থেকে ৭ শতাংশ পাওয়া যায়।
বিভিন্ন গবেষণায় এর বেশ কিছু চমৎকার স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রমাণিত হয়েছে। সেগুলো হলো—
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভরপুর: অরিগানোতে থাকা কারভ্যাক্রল ও থাইমল নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের ক্ষতিকর ফ্রি-র্যাডিক্যাল প্রতিরোধ করে ক্যানসার ও হৃদ্রোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমায়।
ব্যাকটেরিয়ানাশক ক্ষমতা: ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, অরিগানো এসেনশিয়াল অয়েল স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস ও ই. কোলাইর মতো ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় সাদা ফুলের অরিগানো তেলকে এমআরএসএ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে বেগুনি ফুলের তুলনায় বেশি কার্যকর দেখা গেছে। ২০০৯ সালের ল্যাব পরীক্ষায় এটি ২৩ ধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকারিতা দেখায়।
ক্যানসার প্রতিরোধের সম্ভাবনা: ওরেগানো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়। ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, থাইমল মূত্রাশয় ও কোলন ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করে। কারভ্যাক্রল কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতেও সাহায্য করতে পারে।
ভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা: ২০১৪ সালের ল্যাব পরীক্ষায় কারভ্যাক্রল মাত্র ১ ঘণ্টার মধ্যে ডায়রিয়া ও পেটে ব্যথার জন্য দায়ী নরোভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম। ২০১৭ সালের এক গবেষণায় থাইমলকে এইচএসভি-১ ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমায়: অরিগানোর কারভ্যাক্রল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ কমাতে সাহায্য করে। ২০০৭ সালের এক গবেষণায় থাইম ও অরিগানোর তেলের মিশ্রণ কোলাইটিসে আক্রান্ত ইঁদুরের প্রদাহজনিত সমস্যা কমাতে দেখা যায়।
সহজে খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করার সুবিধা: পিৎজা বা পাস্তা ছাড়াও সালাদ, স্যুপ, স্টু, পেস্টো সস বা মাংসের রেসিপিতে তাজা, শুকনো কিংবা তেল হিসেবে অরিগানো ব্যবহার করা যায়।
খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই ভেষজ যুক্ত করতে পারেন। অরিগানো সহজলভ্য এবং ঘরের টবেই সহজে চাষ করা যায়। সালাদ, স্যুপ, স্টু বা মাংসের পদ তৈরিতে তাজা বা শুকনো পাতা ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া সস কিংবা ড্রেসিংয়েও এর ব্যবহার দারুণ। নিয়ম মেনে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অরিগানো রাখা নিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যকর।
সূত্র: হেলথ লাইন