কর্মজীবী নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাতায়াত নিশ্চিত করতে সম্প্রতি আবারও পৃথক পিংক কালারের ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালু করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।
এই প্রেক্ষাপটে ‘আলাদা বাসের ব্যবস্থা করে নারীদের ছোট করা হয়েছে। কারণ নারীরা পুরুষদের সাথে সমানভাবেই চলতে পারে। এখন যেটা করা হলো সেটা লিঙ্গ বৈষম্য’—জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের উদ্ধৃতি দাবিতে এমন ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট রয়েছে এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড’ নামের ফেসবুক গ্রুপে আলোচিত দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। গতকাল বুধবার শেয়ার করা ওই পোস্টে ৫ হাজার ৪০০টি রিঅ্যাকশন, ৪৫২টি কমেন্ট ও ২১ বার শেয়ার রয়েছে।
পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনেক ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য মনে করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
নাহরিন ইসলাম খানের ছবি-সংবলিত ভাইরাল ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এতে কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই। পাশাপাশি, তিনি কবে, কোথায় বা কোন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন—সে বিষয়েও কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে কার্ডটির ওপরের এক পাশে রাজনৈতিক বক্তব্যযুক্ত লেখা দেখা যায়।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড নিয়ে অনুসন্ধানে দেশের কোনো গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে জাবি অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের এমন মন্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন টেলিভিশন টক শো কিংবা সাক্ষাৎকারে দেওয়া তাঁর কোনো বক্তব্যেই মহিলা বাস কিংবা লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করার তথ্য মেলেনি।
অধিকতর অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি শেয়ার করা পেজ ও অ্যাকাউন্টগুলো পর্যালোচনা করা হয়। দেখা যায়, এসব প্ল্যাটফর্ম থেকে নিয়মিতভাবে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই বিভ্রান্তিকর ও মনগড়া পোস্ট প্রচার করা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে চালু হওয়া নারীদের জন্য বিশেষায়িত ‘মহিলা বাস সার্ভিস’-এর প্রাথমিক পর্যায়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়া শহরের ১৩টি রুটে মোট ১৪টি বাস চলাচল করবে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ১০টি, বগুড়া ও চট্টগ্রাম শহরে দুটি করে বাস সার্ভিস পরিচালনা করবে বিআরটিসি। রাজধানী ঢাকার ১০৬টি, চট্টগ্রামে ১২টি ও বগুড়ার ১৬টি মিলিয়ে মোট ১৩৪টি জায়গা থেকে যাত্রীসেবা দেওয়া হবে।
বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালুর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের নামে প্রচারিত উক্তিটি বানোয়াট ও মনগড়া।