গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেব—শিরীন শারমিন চৌধুরী এমন কথা বলেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকারের নামে শেয়ার করা ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, তিনি বলেছেন—‘আমি কথা দিলাম গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পরিবারের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ। আর যদি জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কেউ গ্রেপ্তার হয় তাহলে তাদের পরিবারের দায়িত্ব আমি নিব, ইনশাআল্লাহ।’ (লেখা ও বানান অপরিবর্তিত)
এই দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে।
‘ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২১ এপ্রিল রাত ৮টা ১৮ মিনিটে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটি সবচেয়ে বেশি ছড়ানো পোস্টগুলোর একটি। আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া ভিডিওটিতে ৭ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ১২৮ কমেন্ট ও ৪৯২ শেয়ার রয়েছে।
পোস্টের কমেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সত্য ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
২৬ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ইংরেজিতে কথা বলতে শোনা গেলেও বক্তব্যের মধ্যে আলোচিত দাবি সম্পর্কিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভিডিওতে কোথায়, কখন বা কোন প্রেক্ষাপটে বক্তব্যটি দেওয়া হয়েছে—সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য উল্লেখ নেই।
ভিডিওটি যেসব পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই নির্দিষ্ট আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থনমূলক কনটেন্ট শেয়ার করে থাকে—যা দাবিটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আরও সন্দেহ তৈরি করে।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে জাতীয় কোনো গণমাধ্যমে এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি শিরীন শারমিন চৌধুরীর–এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য বা বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধানে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘Inter-Parliamentary Union’ – এর ফেসবুক পেজে ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। সেই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।
ভিডিওটির বর্ণনা থেকে জানা যায়, এটি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সংসদের ভূমিকা নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্যের অংশ। ভিডিওটি মূলত ২০২০ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত Fifth World Conference of Speakers of Parliament এবং 13th Summit of Women Speakers of Parliament–এর প্রেক্ষাপটে ধারণ করা হয়েছিল। সেখানে শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেটিতেই বর্তমানে নতুন ও বিভ্রান্তিকর দাবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে।
সিদ্ধান্ত
শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামে ‘গ্রেপ্তার হওয়া নেতা-কর্মীদের পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া’ সংক্রান্ত বক্তব্য দিয়ে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। বরং এটি পুরোনো একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ভিডিও, যার সঙ্গে ভাইরাল দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।