সরকারের খরচে বিদেশ থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় ‘জুলাই জঙ্গি আন্দোলনের নেতা’ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে ‘ওবায়দুল কাদের এমপি’, ‘Nizamul Islam Saif’, ‘Shania Kabir Sani’ , ‘সিরাজুল ইসলাম সবুজ’ , ‘আমি জয় বাংলার লোক’, ‘Lokman Sikder , ‘Tanvir Rahaman Tipu’ -সহ ২০টির অধিক অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে সম্প্রতি ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।
শেয়ার করা এসব পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেটিজেনদের একটি বড় অংশ ঘটনাটিকে সত্য মনে করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং তীব্র সমালোচনা করছেন।
আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর ভেতরে ভিডিও বা ঘটনার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ অনুসন্ধান করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘Channel 24’-এর ফেসবুক পেজে চলতি বছরের ২৫ মার্চ শেয়ার করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘রোগী সেজে চোরাচালান; অবশেষে ধরা পরলো’ ক্যাপশনে শেয়ার করা ওই ভিডিওর সঙ্গে সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। তবে সেখানে কোনো রাজনৈতিক নেতা বা জুলাই আন্দোলনের কোনো বিষয়ের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে একাধিক (১, ২, ৩ ) জাতীয় দৈনিকে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
‘শাহজালাল বিমানবন্দরে রোগীর বেশধারী ভারতীয় নাগরিকের কাছ থেকে মদ জব্দ’—শিরোনামে গত ১৮ মার্চ প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোগীর ছদ্মবেশ ধারণ করে শুল্ক ফাঁকির মাধ্যমে পণ্য পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে এক ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। কলকাতা থেকে ঢাকায় আসা ওই যাত্রী হুইলচেয়ারে অসুস্থ রোগী সেজে বিমানবন্দর ত্যাগের চেষ্টা করেন। সন্দেহের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে তাঁর কাছ থেকে প্রায় ২০ কেজি প্রসাধনসামগ্রী, চার লিটার বিদেশি মদ, তিনটি মোবাইল ফোন, সাতটি পোশাকসহ বিভিন্ন ঘোষণাবিহীন পণ্য উদ্ধার করা হয়। শুল্ক কর্মকর্তারা জানান, জব্দ করা পণ্যের চেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় ছিল বিশেষ সহায়তা সেবার অপব্যবহার করে রোগীর পরিচয়ে পণ্য পাচারের চেষ্টা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অর্থাৎ, আটক ব্যক্তি বাংলাদেশের ‘জুলাই আন্দোলনের’ কোনো নেতা বা কর্মী নন, বরং তিনি কাস্টমসের চোখ ফাঁকি দিতে রোগীর ছদ্মবেশ ধারণ করা একজন ভারতীয় যাত্রী।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে বসে রোগীর ছদ্মবেশে বিদেশি মদ ও চোরাচালান পণ্যসহ এক ভারতীয় নাগরিকের আটক হওয়ার ভিডিওকে ‘জুলাই আন্দোলনের নেতা মদসহ গ্রেপ্তার’ দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।