এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এই দাবিতে ‘মুজিব সৈনিক’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিওটি আজ সোমবার বেলা ১টা পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার বার শেয়ার হয়েছে এবং রিয়েকশন পড়েছে ৪৮৫টি।
ভিডিওটি শেয়ার করা পেজ ও আইডিগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পেজ ও আইডিগুলোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিপক্ষে নিয়মিত পোস্ট করা হয়।
ভিডিওটির কমেন্টেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ প্রচারিত দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, ‘এত দিনে সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে। আগেই বলেছি, ভোট হবে না।’ আবার আরেক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, ‘ও ভাইরে ভাই, মির্জা ফখরুলকে তো ইয়াং লাগে! এটা কত সালের ভিডিও?’
দাবিটির সত্যাসত্য যাচাইয়ের শুরুতেই প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এতে বেসরকারি যমুনা টিভির লোগো, লোয়ার থার্ডে লেখা আসছে— ইভিএমের ব্যবহারের কথা বলায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার শুরুতেই সর্বসম্মতিক্রমে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার বাতিল করে ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে বলা হয় প্রধান উপদেষ্টা, কখনোই প্রধানমন্ত্রী নয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ২০২২ সালের ১০ মে যমুনা টিভিতে প্রচারিত বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি কর্মসূচিতে ধারণ করা।
ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম সার্চ করে দেখা যায়, নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আয়োজিত যৌথ সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত সেই ভিডিওর শিরোনাম— ‘বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল।’
ভিডিওর ডেসক্রিপশনে বলা হয়, ‘এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এ নিয়ে কোন সংশয়-সন্দেহ নেই-সাফ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সবার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ ইসি নিশ্চিত হলেই কেবল নির্বাচনের কথা হতে পারে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কথা বলায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, এতেই প্রমাণ হয়, সরকার ইচ্ছা করেই নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। পল্টনে যৌথসভা শেষে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।’ (বানান ও ভাষা অপরিবর্তিত)
পরবর্তীতে আরও অনুসন্ধানে সম্প্রতি দেশীয় কোনো গণমাধ্যমে নির্বাচন বর্জনের ব্যাপারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এমনকি বিএনপির কোনো নেতারও মন্তব্য সংবলিত কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে ‘বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।
২০২২ সালের ১০ মে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আগে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। তারপর নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। এতে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।’
এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলেও ২০২২ সালের ১০মে ‘বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না: মির্জা ফখরুল’ শিরোনামে একটি ভিডিও পাওয়া যায়।
প্রচারিত দাবির বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ১৮ জুন ২০২২ সালে ঢাকা টাইমসে ‘নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল’
এ ছাড়া ১৯ জুলাই ২০২৩ দৈনিক প্রথম আলোতে ‘এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়: মির্জা ফখরুল’ শিরোনামসহ ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিএনপির নির্বাচন বর্জন নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্বৃতিতে প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, সার্বিক অনুসন্ধানে স্পষ্ট যে, সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পুরোনো। প্রকৃতপক্ষে এটি ২০২২ সালে বিএনপির এক কর্মসূচিতে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের ভিডিও বর্তমানের দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।