হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

মুসলিম ফার্নিচার ব্যবসায়ীর কারখানায় আগুনকে চাঁদার দাবিতে হিন্দু বাড়িতে আক্রমণ বলে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দুদের বাড়িতে আগুনের দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ‘সনাতন ধর্ম’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা ওই ভিডিওটিতে ৯ অক্টোবর দুপুর ১টা পর্যন্ত হাজারের বেশি রিয়েকশন ও কয়েকশ শেয়ার রয়েছে।

ছড়িয়ে পড়া পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অনেক ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য মনে করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। পোস্টের কমেন্টে একজন লিখেছেন, ‘এটাই হচ্ছে সোনার বাংলা দেশ দাদা।’ আরেকজন বলেন, ‘ভগবানের উপরে ভরসা রাখেন। ক্ষমতা আজকে যাদের আছে, তারাই এমন করে। তবে ক্ষমতা চিরকাল থাকে না। বনে যখন সিংহের ক্ষমতা কমে যায়, তখন কুকুরও সিংহকে আঘাত করে। কিন্তু এই সিংহকে একসময় বনের সব প্রাণী ভয় পেত।’ আরেকজন আবার বলেন, ‘ভারতীয় হিন্দুদের এগুলো দেখে শেখা উচিত (Indian Hindus should learn from this)।’

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত ভিডিওতে টিনের বেড়া দেওয়া একটি স্থানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে এবং সেখান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। বেশ কয়েকজন মানুষ দূরে দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছেন। এ ছাড়া ভিডিওতে ‘চাঁদা না দেওয়ায় হিন্দুদের ঘরে আগুন’ এবং ‘হিন্দুদের ঘরবাড়িতে আগুন, বিএনপি নেতার চাঁদার টাকা না দেওয়ায়, বাংলাদেশ’—এমন লেখা রয়েছে। তবে পোস্টে বা ভিডিওতে ঘটনাস্থল বা সময় সম্পর্কে কোনো নেই।

অনুসন্ধানে ‘The Daily Rangamati’ ও ‘AjBarta Online’ নামের ফেসবুক পেজে গত ৩ আগস্ট হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। পোস্টগুলোর ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের। গত ৩ আগস্ট ভোরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বসতঘর ও তিনটি ফার্নিচারের কারখানা পুড়ে যায়।

একই ঘটনার ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘যমুনা টিভি’ ও ‘ডিবিসি নিউজ’ -এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও। গত ৩ আগস্ট শেয়ার করা এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাঙামাটিতে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল বসতঘর ও দোকান, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।’

ফেসবুক পেজ ও গণমাধ্যমের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

পাশাপাশি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে প্রায় একই তথ্য পাওয়া যায়।

সংবাদপত্রের প্রতিবেদন। ছবি: স্ক্রিনশট

এ ছাড়া, জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আলাল উদ্দিনের বরাতে বলা হয়, সকালে কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি আগুন লাগার খবর পান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি তাঁর আসবাবপত্র ও দোকান পুড়ে যেতে দেখেন।

এসব প্রতিবেদনের কোথাও কোনো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে আগুন লাগার তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আলাল উদ্দিন একজন মুসলিম। ওই ঘটনার সঙ্গে চাঁদা দাবির সম্পর্ক ছিল বলে কোনো তথ্য মেলেনি।

আজকের পত্রিকার তুলনাচিত্র

সিদ্ধান্ত

চাঁদা না দেওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঘরবাড়িতে বিএনপি নেতার আগুন দেওয়ার দাবিটি ভুয়া। মূলত রাঙামাটির লংগদুতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ঘটা অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com