‘কুমিল্লার দেবিদ্বারে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করে ৯টি পলিথিনের প্যাকেটে ভরে রাখে বিএনপির সন্ত্রাসীরা’—এমন চাঞ্চল্যকর দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে।
প্রচারিত ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে বেশ কয়েকটি সবুজ পলিথিনের প্যাকেটে মাংসসদৃশ বস্তু দেখা যায়। এ ছাড়া, ভিডিওতে মানুষের কথাবার্তার আওয়াজের পাশাপাশি একজনকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, ‘কী করছে গো আমার মাকে, কী করছে গো।’
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে বেশকিছু ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। তবে এসব ভিডিওর ক্যাপশনে কোথাও ছাত্রলীগের কথা উল্লেখ নেই। বরং একটি ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘কুমিল্লা দেবিদ্বারে বাড়ির মালিককে খুন করে ৯টি পলিথিনে ভরে রাখে ভাড়াটিয়া।’
এই সূত্র ধরে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টিভির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ৯ আগস্ট প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ‘কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৯ প্যাকেটে বাড়িওয়ালার মরদেহ উদ্ধার; ভাড়াটিয়া আটক’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনের একটি দৃশ্যের সঙ্গে ‘ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্য হুবহু মিলে যায়।
যমুনা টিভির প্রতিবেদন ও অন্যান্য মূলধারার গণমাধ্যমের (১, ২, ৩, ৪, ) সংবাদ বিশ্লেষণ করে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট সন্ধ্যায় কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুরে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক নারীকে হত্যার পর তাঁর মরদেহ টুকরো টুকরো করে নয়টি পলিথিন ব্যাগে ভরে রাখা হয়। পরে বাড়ির পেছন থেকে ওই প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাড়াটিয়া লাইলী আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং আরও চারজনের নাম জানিয়েছেন। বাকিদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে। প্রাথমিকভাবে স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটের উদ্দেশ্যে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিএনপি নেতা-কর্মী ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা করে মরদেহ ৯টি পলিথিনে ভরে রাখে বলে প্রচারিত ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। এটি ভাড়াটিয়ার হাতে বাড়ির মালিক খুনের দৃশ্য।