হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

বাংলাদেশে হিন্দুদের ‘নরকসম জীবন’ দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ছিনতাইকারীকে গণপিটুনির

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন দাবিতে ভারতের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘নরকসম জীবনযাপনে বাধ্য করা হয়’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

‘Mr. Mishra’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গতকাল রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) আলোচিত দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা পোস্টের ক্যাপশনে হিন্দি ভাষায় লেখা হয়, ‘এই হৃদয়বিদারক ভিডিওটি বাংলাদেশের। আপনি যদি বাংলাদেশে কোনো হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে এই জীবন আপনার জন্য একটি অভিশাপ। বাংলাদেশে হিন্দুরা নরকসম জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।’

শেয়ার করা ভিডিওটি আজ সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৪ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে প্রায় ৩ হাজার ৫০০টি রিঅ্যাকশন, ২ হাজার ৪০০ বার রিপোস্ট ও ৫৪৬টি কমেন্ট রয়েছে।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত এক মিনিটের ভিডিওটিতে দেখা যায়, কয়েকজন মিলে এক ব্যক্তিকে পানিতে ফেলে দিচ্ছেন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ও লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন।

অনুসন্ধানে প্রচারিত দাবির বিষয়ে জাতীয় কোনো গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এটি কোনো ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা নয়। গত ১৭ জুন ‘Qawmi Voice 24’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওর সঙ্গে সাম্প্রতিক ছড়ানো ভিডিওটির মিল পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, গত ১৬ জুন যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা মোড়ে মোবাইল ছিনতাইকারী আটক, জনতার গণপিটুনির ভয়ে পচা পানিতে ঝাঁপ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। একই তথ্য পাওয়া যায় ভিডিওর ভেতরে থাকা লেখা থেকেও।

‘Qawmi Voice 24’ নামের ফেসবুক পেজের ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

এ ছাড়া ভিডিওতে উপস্থিত জনতাকে ‘চোর’, ‘ছিনতাইকারী’, ‘খালি মানুষের ফোন ছিনতাই করোস’ ইত্যাদি বলতে শোনা যায়।

আরও একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ভিডিও থেকেও প্রায় একই রকম তথ্য পাওয়া যায়। তবে এসব ভিডিওর কোথাও ওই ব্যক্তিকে সনাতনী বা তাঁকে সনাতনী হওয়ায় নির্যাতন করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে ‘Qawmi Voice 24’ নামের পেজটির অ্যাডমিন উজাইফা আল মাহাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকের পত্রিকার ফ্যাক্টচেক টিম। তিনি জানান, যাত্রাবাড়ী বড় মাদ্রাসার পাশে প্রায়ই চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। তাঁর পরিচিত অনেকের সঙ্গেই এমন ঘটনা ঘটেছে। সেদিন (১৬ জুন) এক ব্যক্তি ফোন চুরি করতে গিয়ে আটক হন। ওই ঘটনার ভিডিওই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় বিষয় জড়িত নয়।

এ ছাড়া ‘Mr. Mishra’ নামের এক্স অ্যাকাউন্টি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেটি ভারত থেকে পরিচালিত হয়। অ্যাকাউন্টটির পরিচিতিতে সুনীল মিশ্রকে ‘দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী’ ও ‘ভূরাজনীতি, রাজনীতি ও তোষণনীতি নিয়ে সত্যনিষ্ঠ বিশ্লেষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে ‘সনাতন’, ‘ভারত আগে’ ও ‘জয় শ্রী রাম’ লেখা রয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও চলতি বছরের ২১ জুন প্রায় একই দাবিতে ভিডিওটি এক্সে ছড়িয়ে পড়লে তা শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আজকের পত্রিকা।

সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘নরকসম জীবন যাপন করতে বাধ্য করা হয়’—এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় কোনো ঘটনার নয়। মূলত এটি চলতি বছরের ১৬ জুন যাত্রাবাড়ী এলাকায় মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটকের পর মারধরের ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com