‘দুইটা ব্যাংক খোলেন। একটার নাম দেন “বিএনপি ব্যাংক”, আরেকটার নাম দেন “জামায়াত ব্যাংক”। এরপর এক মাস পর দুই ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। তারপর বুঝব, এই দেশের মানুষ কার কাছে তাদের আমানত রাখতে নিরাপদ মনে করে’—জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের উদ্ধৃতি দাবিতে এমন ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
‘NCP’নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে আলোচিত দাবিতে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হয়। ২৪ আগস্ট শেয়ার করা ওই পোস্টে আজ (২৫ আগস্ট) দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার রিয়েকশন, ৮২ কমেন্ট ও ৮৭ শেয়ার রয়েছে।
পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ফটোকার্ডটিকে সত্য মনে করছেন।
প্রচারিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ কবে বা কোথায় এমন কথা বলেছেন, তার কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া অনুসন্ধানে দেশীয় কোনো মূলধারার গণমাধ্যম কিংবামেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের অফিশিয়াল পেজ ও সংসদে দেওয়া কোনো বক্তব্যে এমন কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি।
আরও অনুসন্ধানে গত ১৭ জুন শেয়ার করা ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ নামের ফেসবুক গ্রুপেও একই দাবিতে আরও একটি ফটোকার্ড পাওয়া যায়। তবে প্রচারিত ওই ফটোকার্ডেও দাবিটির পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
বিষয়টি নিয়ে অধিকতর অনুসন্ধানে চলতি বছরের ১৩ ও ১৪ জুন ‘Ruby Sarah’, ‘Faruk Sorkar’, ‘Md Jabed Hossan’ নামের একাধিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও পেজে একই বক্তব্য সংবলিত ফটোকার্ড ও পোস্ট পাওয়া যায়। তবে সেখানে মেজর হাফিজের পরিবর্তে জনৈক ‘সৈয়দ মহসিন আলী রুমি’ নামের এক ব্যক্তির নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
এই সূত্রে ধরে অনুসন্ধানে ‘সৈয়দ মহসিন আলী রুমি’ নামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। অ্যাকাউন্টটিতে গত ১১ জুন শেয়ার করা মূল পোস্টটি পাওয়া যায়। এ ছাড়া ওই অ্যাকাউন্টে পাওয়া ছবি ও তথ্যের সঙ্গেও ‘সৈয়দ মহসিন আলী রুমি’ নামে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটির মিল রয়েছে।
‘বিএনপি ব্যাংক ও জামায়াত ব্যাংক’ খোলা সম্পর্কিত জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি বানোয়াট। একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্টকে পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পিকারের উক্তি দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে।