কক্সবাজার পর্যটনকেন্দ্রের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত দাবিতে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হয়, ‘আহারে বাংলাদেশ, চাঁদা না দেওয়ায় সবার সামনে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা। কক্সবাজার পর্যটন কেন্দ্রের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করে।’
ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট ও রিঅ্যাকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী দাবিটিকে সত্য বলে মনে করেছেন।
প্রচারিত ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে কয়েকজন যুবককে মিলে এক ব্যক্তিকে মাটিতে ফেলে অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি অস্বচ্ছ ও ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক যুক্ত থাকায় চারপাশের কোনো স্থান বা শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়নি।
অনুসন্ধানে জাতীয় বা স্থানীয় কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে কক্সবাজারে এমন সংবাদের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পরে ভিডিওর কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ভাস্কর নিউজ’-এর ওয়েবসাইটে একই ভিডিও সংবলিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, বরং ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পঞ্চকুলা জেলার কালকা থানার গান্ধী চক এলাকার।
অধিকতর অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘অর্থ প্রকাশ’-এ ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে কালকার গান্ধী চকে নিখিল চৌরাসিয়া নামের এক ব্যক্তির ওপর ছয় থেকে সাতজন যুবক লাঠি ও রড নিয়ে হামলা চালান।
কালকা পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রতাপ সিং জানান, পুরোনো পারস্পরিক শত্রুতার জেরে নিখিল চৌরাসিয়ার ওপর এই হামলা চালানো হয়। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে পঞ্চকুলার হাসপাতালে ও পরে চণ্ডীগড়ের পিজিআই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি পিজিআইয়ে চিকিৎসাধীন।
কক্সবাজার পর্যটনকেন্দ্রের সামনে চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মী কর্তৃক এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার দাবিটি ভিত্তিহীন। মূলত ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের পঞ্চকুলায় শত্রুতার জেরে এক যুবকের ওপর হামলার ভিডিওকে বাংলাদেশে চাঁদাবাজির ঘটনা দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।