মাদারীপুরে মন্দিরে হামলা চালিয়ে শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের মন্দির ও রাধা-কৃষ্ণের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে—এমন একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে ( ১, ২ ) পড়েছে।
‘বিশ্ব হিন্দু মহাজোট’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে গতকাল একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করা হয়, গত ৭ আগস্ট মাদারীপুর সদর থানার মস্তফাপুর, পর্বতবাগান দিঘীরপাড় এলাকার শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের মন্দির ও রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এমনকি দাবিটিকে সাম্প্রতিক মনে করে বেশ কিছু অনলাইন পোর্টালেও সংবাদ ( ১, ২ ) প্রকাশিত হয়েছে।
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোর কমেন্ট ও রিয়েকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ নেটিজেনই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক মনে করে কমেন্ট করেছেন। পোস্টের কমেন্টে একজন লিখেছেন, ‘ভগবান এই পাপ দেশকে রক্ষা করুন, পাপীদের বিনাশ করুন।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘দেশ এখন পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে, কোনো কিছুরই আর নিরাপত্তা নেই।’ অপর একজনের কমেন্ট, ‘সরকার একটি ঘটনারও বিচার করতে পারছে না।’
প্রচারিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড নিয়ে অনুসন্ধানে সম্প্রতি মাদারীপুরে এমন কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশন’ এবং অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর’ -এ প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এসব প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ভাইরাল ফটোকার্ডের ছবির হুবহু মিল রয়েছে।
২০২৫ সালের ৭ আগস্ট প্রকাশিত গণমাধ্যমের এসব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট দিবাগত রাতে মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের পর্বত বাগানের দীঘির পাড়ের শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের মন্দির ও রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে রাতের আঁধারে ভাঙচুরের এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের পর্বত বাগানের দীঘির পাড়ের একই স্থানের শ্রী শ্রী গণেশ পাগলের মন্দির ও রাধা কৃষ্ণ মন্দির। রাতে একদল দুর্বৃত্ত মন্দিরে প্রবেশ করে গণেশ পাগলের একটি প্রতিমা এবং পাশেই থাকা রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরের রাধা-কৃষ্ণ প্রতিমা ভাঙচুর করে। পরে সকালে এলাকাবাসীর নজরে এলে মাদারীপুর সদর থানা-পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
সে সময় মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সকালে খবর পেয়েই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মন্দিরের দুটি প্রতিমা ফেলে রাখা অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে এই ঘটনা কীভাবে হলো কিংবা কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। প্রতিমা ভাংচুরের সঙ্গে যারা জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ছাড়া ইউটিউব চ্যানেল ‘Channel S News’-এ গত বছরের ৭ আগস্ট ‘মাদারীপুরে দুটি মন্দিরে দুর্বৃত্তদের হামলা, ৪টি প্রতিমা ভাঙচুর’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
মাদারীপুরের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি মূলত, ২০২৫ সালের আগস্টের ঘটনা, যা সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।