হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে মারধরের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে মারধর দাবিতে ছড়ানো ভিডিও। ছবি: স্ক্রিনশট

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদার টাকা না দেওয়ায় প্রকাশ্যে এক ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে হামলা ও মারধর করা হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

আলোচিত দাবিতে ভাইরাল কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে

Ma Fason’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১৭ আগস্ট ভিডিওটি শেয়ার করা হয়, যা আলোচিত দাবিতে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটি ২ লাখ ২৩ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ১ হাজার ১০০টি রিয়েকশন, ১৩৪ কমেন্ট ও ৪ হাজার ১০০ শেয়ার রয়েছে।

পোস্টের কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেটিজেনদের বড় একটি অংশ ঘটনাটিকে সত্য ধরে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করছেন।

পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এক ব্যক্তিকে সংঘবদ্ধভাবে কয়েকজন লোক লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করছেন। ভিডিওটির ওপরের অংশে ‘ডেইলি প্রথম সকাল’ লেখা ওয়াটারমার্ক দৃশ্যমান।

উক্ত সূত্রের ওপর ভিত্তি করে অনুসন্ধানে ‘Daily Prothom Sakal’ নামের ফেসবুক পেজে ১৬ আগস্ট প্রকাশিত ভিডিওটি পাওয়া যায়। তবে সেখানে ঘটনার স্থান বা তথ্যের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস উল্লেখ করা হয়নি।

কম্পেরিজন: আজকের পত্রিকা

পরে চুয়াডাঙ্গায় সম্প্রতি এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না তা নিয়ে অনুসন্ধানে এমন কোনো খবরের সত্যতা মেলেনি।

আরও অনুসন্ধানে ভিডিওটির কিছু কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘Free Press Journal’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে। ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের উত্তর প্রদেশের লাখিমপুরের।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উত্তর প্রদেশের লাখিমপুরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক দোকানিকে কয়েকজন ব্যক্তি মারধর করেন। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল সকালে ঘটে এবং দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

প্রতিবেদন আরও বলা হয়, ভুক্তভোগী জগদীশ কুমার দোকান খোলার কিছুক্ষণ পর অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত জগদীশকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা (এফআইআর) দায়ের করে।

এ ছাড়া আরও কিছু , , ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও ভারতের উত্তর প্রদেশের লাখিমপুরের হামলার ঘটনার একই সিসিটিভি ফুটেজর ছবি ও তথ্য পাওয়া যায়।

কম্পেরিজন: আজকের পত্রিকা

সিদ্ধান্ত

চুয়াডাঙ্গায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভিত্তিহীন। মূলত, ভারতের উত্তর প্রদেশে জমিজমা-সংক্রান্ত ঘটনার পুরোনো ভিডিওকে বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com