হোম > ফ্যাক্টচেক > দেশ

শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের নামে ছড়ানো বক্তব্যটি ভুয়া

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

ভারতীয় হাইকমিশনারের নামে ছড়ানো ফটোকার্ড। ছবি: স্ক্রিনশট

‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন, আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট’—এটি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর উদ্ধৃতি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।

আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে , এখানে , এখানে এবং এখানে

আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলোর কমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারীই ফটোকার্ডটিতে উল্লেখিত উক্তিটি ভারতীয় হাইকমিশনারের মনে করে কমেন্ট করেছেন।

পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

প্রচারিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

তবে অনুসন্ধানে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময় টিভি’-র ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গত ১০ আগস্ট ‘দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুন্দর হবে: দীনেশ ত্রিবেদী’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে বিভিন্ন ধরনের ইস্যু থাকবে এবং সেগুলো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের জনগণ ও সে দেশের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে চান এবং ভবিষ্যতেও ভালো কিছু হবে।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি মন্তব্য করেন, দুই দেশের এমন কোনো জটিল সমস্যা নেই যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব নয়। বক্তব্য প্রদানকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক সমাধানের বিষয়ে নিজের দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের কথা জানাতে গিয়ে ওই ভিডিওর ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডে তিনি বলেন, ‘I am very confident, very, very confident.’

তবে ওই সময় দীনেশ ত্রিবেদীর পুরো বক্তব্যের কোথাও শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরা বা তাঁর প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যান্য মূলধারার গণমাধ্যমের প্রতিবেদন (, , ) থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।

সিদ্ধান্ত

‘শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরবেন, আই এম ভেরি ভেরি কনফিডেন্ট’— এটি ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর নয়, উক্তিটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে তাঁর বলা একটি ইংরেজি বাক্যকে ভিন্ন প্রসঙ্গে ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com