দলিল চুরির অপরাধে হবিগঞ্জের বাহুবলে গাছে বেঁধে এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়ানো হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে, এখানে এবং এখানে ।
অনুসন্ধানের শুরুতেই প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। পর্যবেক্ষণে ১০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে হাত বাঁধা অবস্থায় গাছের সঙ্গে আটকে রেখে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারের আওয়াজও শোনা যায়।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে হবিগঞ্জের বাহুবলে সম্প্রতি এমন কোনো অপরাধ বা নির্যাতনের খবর ঘটেছে কি না জানতে অনুসন্ধান করা হলে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা দেশের কোনো মূলধারার গণমাধ্যমে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে অনুসন্ধানে ‘HaberLog’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর শেয়ার হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ক্যাপশনে তুর্কি ভাষায় বলা হয়, ভিডিওটি মেক্সিকোর একটি সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীর, যারা প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে এক ব্যক্তিকে পুড়িয়ে হত্যার ভিডিও প্রকাশ করেছে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।
এইসূত্র ধরে অনুসন্ধানে অনুসন্ধানে ব্রাজিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম BNews-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ওই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মেক্সিকোর আলোচিত মাদক চক্র ‘জ্যালিস্কো নুয়েভা জেনারেসিওন’-এর সশস্ত্র সদস্যরা হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক ব্যক্তিকে ফ্লেমথ্রোয়ার দিয়ে জীবন্ত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে।
এ ছাড়া আরও অনুসন্ধানে গত বছরের ২৪ নভেম্বর মেক্সিকোর অনলাইনভিত্তিক নিউজ পোর্টাল LodeHoy-এরও একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে গাছের সঙ্গে বেধেঁ রাখা ব্যক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে দাবি করা হয়েছে এবং তিনি সম্ভবত ‘মাইতো ফ্লাকো’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সেল বা সিনালোয়া কার্টেলের একটি অংশের সদস্য হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিডিওতে অস্ত্র হাতে ব্যক্তির পোশাকে CJNG-এর লোগো এবং তাঁর সহযোগীদের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে শোনা যায়। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও মেক্সিকোর কোনো কেন্দ্রীয় বা অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের সরকারি কর্তৃপক্ষ ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি। একইভাবে, ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে কিংবা কথিত ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে, সে বিষয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
নিরাপত্তা-বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে ভয় দেখানো এবং নিজেদের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিতে অপরাধী সংগঠনগুলো প্রায়ই সহিংসতা ও হুমকিসংবলিত ভিডিও প্রচার করে।
দলিল চুরির অভিযোগে হবিগঞ্জের বাহুবলে গাছে বেঁধে এক ব্যক্তিকে আগুনে পুড়িয়ে নির্যাতনের দাবিটি বানোয়াট।