শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২৪ আগস্ট আলোচিত দাবিতে ফেসবুকে শেয়ার করা কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
আলোচিত দাবিতে সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক নাজমুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা ভিডিওটি। ‘শিক্ষামন্ত্রী নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনগণের তীব্র তোপের মুখে, ভেঙেছে মন্ত্রীর গাড়ি’ ক্যাপশনে শেয়ার করা ভিডিওটি দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে।
‘Md. Nazim Hasan’ নামের পেজে শেয়ার করা পোস্টে বলা হয়, ‘নিজ গ্রামে শিক্ষামন্ত্রী মিলন সাহেবের গাড়িতে হামলা, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
অন্যদিকে ‘Shamim Chowdhury’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর গাড়ি ভাঙচুর করছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। আর শিক্ষামন্ত্রীর নিজ এলাকাতেই রয়েছেন বিএনপির ভাইয়েরা। যাঁদের নিয়ে আপনারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বলেন, সুযোগ পেলে তাঁরাও আপনাদের ছাড়বে না। এটাই আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নমুনা।
আলোচিত দাবিতে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের কমেন্টগুলো পর্যবেক্ষণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।
প্রচারিত ভিডিওগুলো পর্যবেক্ষণে কোনো সোর্সের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে কি না তা জানতে অনুসন্ধান চালানো হলে দেশীয় কোনো গণমাধ্যমে এমন সংবাদের সতত্য মেলেনি।
পরে অনুসন্ধানে ‘জেনিফার আজমাইন ঐশী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল শেয়ার করা একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ওই পোস্টের ছবির সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
উক্ত পোস্টের ক্যাপশন থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে চাঁদপুরের কচুয়ায় ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ৭ নম্বর দক্ষিণ কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপি ওই দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। এতে অংশ নিতে যাওয়ার সময় পথে স্থানীয় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।
সে সময় প্রায় একই তথ্য ও ছবি সংবলিত প্রতিবেদন ঢাকা পোস্টসহ একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া, একই দিন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের প্রচারিত ভিডিও প্রতিবেদনেও ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে মিল পাওয়া যায়।
এ ছাড়া পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বিভ্রান্তি ছড়ানোর পর নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক নাজমুল আলম পোস্ট করার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর নিজের পোস্টের ক্যাপশন পরিবর্তন করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের গাড়িতে সম্প্রতি হামলা বা ভাঙচুরের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। মূলত ২০২২ সালে চাঁদপুরের কচুয়ায় এহসানুল হক মিলনের বহরে ছাত্রলীগের হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের পুরোনো ভিডিও ক্লিপকে সাম্প্রতিক ঘটনা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।