হোম > ফ্যাক্টচেক > বিদেশ

ভারতে ভূত ছাড়ানোর ভিডিওকে আ.লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার দৃশ্য বলে প্রচার

ফ্যাক্টচেক ডেস্ক

রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার দাবিতে ভিডিও প্রচার। ছবি: স্ক্রিনশট

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান মল্লিককে ‘জঙ্গি নেতা কর্তৃক পুড়িয়ে হত্যা’ করা হয়েছে—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে অনেকেই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক ও বাংলাদেশের বলে দাবি করছেন।

এই দাবিতে একাধিক ( , , , , ) পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ভিডিওটি ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটিকে সত্য ধরে শেয়ার করছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

‘দৈনিক গ্রাম বাংলার কাগজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল ২৪ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটি সবচেয়ে বেশি ছড়ানো পোস্টগুলোর একটি। শেয়ার করা ভিডিওটি ২৫ এপ্রিল দুপুর ২টা ৩৭ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৮৩ হাজার বার দেখা হয়েছে। এ ছাড়া এ ছাড়া ভিডিওটিতে ১ হাজার ৮০০ রিয়েকশন, ১৬৮ কমেন্ট ও ৩৭৬ শেয়ার রয়েছে।

ভাইরাল পোস্টগুলোর কমেন্ট বিশ্লেষণে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

আলোচিত দাবিতে পোস্টের কমেন্ট। ছবি: স্ক্রিনশট

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান

ভাইরাল দাবিটির সত্যতা যাচাই করতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে আগুনের কাছাকাছি রেখে আরেক ব্যক্তি কিছু বলছেন এবং আশপাশে কয়েকজন উপস্থিত আছেন। তবে ভিডিওতে কোথাও স্থান, সময় বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ভিডিওতে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক থাকায় তাঁদের কথোপকথনও বোঝা যায় না।

ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ‘shidik ali’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে একটি শর্টস ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ‘Musalman ke bare mein bolo na’ শিরোনামে পোস্ট করা ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। ভিডিওটি বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি কোনো হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য নয়। বরং সেখানে টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়ি বিশিষ্ট এক ব্যক্তি জ্বলতে থাকা আবর্জনার ধোঁয়ায় আরেক ব্যক্তিকে জোর করে চেপে ধরছেন। চড়-থাপ্পড় দিতেও দেখা যায়। বাকি লোকেরা ওই দাড়ি বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সহায়তা করছে।

ভিডিওতে হিন্দি ভাষায় কথোপকথন শোনা যায়। দাড়ি বিশিষ্ট ব্যক্তির কথপোকথনে বোঝা যায়, তিনি আসলে ওঝা। জিন বা ভূত ছাড়ানোর কসরত করছেন। এক ব্যক্তিকে ধোঁয়ার ওপর ঠেসে ধরে তিনি বলছেন, আর তাঁকে বিরক্ত করবে কি না। জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, তিনি আর বিরক্ত করবেন না। এমনকি ‘মায়ের কসম’ বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর ওঝা আবার জানতে চান, তাঁর কোনো চাওয়া আছে কি না। তখন ওই ব্যক্তি বলেন, তাঁর কোনো চাওয়া নেই। ওঝা আবার জোর দিয়ে বলেন, কিছু থাকলে বলতে। কিন্তু তিনি আবারও বলেন, ‘কিছুই নেই, মায়ের কসম।’ পরে ওঝা জানতে চান, গতকাল থেকে কেন তাকে বিরক্ত করা হচ্ছে, কারণ তিনি আগের দিনই তাকে সম্মান দিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। তখন ওই ব্যক্তিকে ‘হ্যাঁ’ বলতে শোনা যায়। এ ছাড়া ওই ভিডিওতে কথোপকথনের এক পর্যায়ে ওঝা কর্তৃক ভুক্তভোগী ব্যাক্তির মাথায় আঘাত করতেও দেখা যায়।

ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে সাদিক আলী নামের ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর সাদৃশ্য। ছবি: স্ক্রিনশট

এই সংলাপ ও প্রেক্ষাপট থেকে স্পষ্ট হয়, এটি কোনো সহিংস হামলা বা হত্যার ঘটনা নয়; বরং ভূত ছাড়ানোর দৃশ্য। এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধান চালিয়েও রাজশাহীর পুঠিয়ায় আরমান মল্লিক নামে কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো প্রতিবেদন কিংবা কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিদ্ধান্ত

রাজশাহীর পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আরমান মল্লিককে পুড়িয়ে হত্যার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ভিন্ন ঘটনার। এটি কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ভারতে ভূত ছাড়ানোর ভিডিও।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা factcheck@ajkerpatrika.com

বলিভিয়ার মমির ছবিকে গাজায় উদ্ধার শিশুর মৃতদেহ বলে প্রচার

ট্রাম্পকে ‘সাবধানে কথা বলার’ পরামর্শ দেননি মেলোনি, ভাইরাল দাবিটি ভুয়া

সৌদি যুবরাজের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

কুষ্টিয়ায় পীরের আস্তানায় হামলাকে হিন্দু নির্যাতন বলে প্রোপাগান্ডা ভারতীয়দের

ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচাল গরু— ভাইরাল ভিডিওটি এআই নির্মিত

ভারতে শিক্ষককে মারধরের ভিডিও বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার

নেপালে কি সত্যিই বেসরকারি স্কুল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ

ইরানের মার্কিন বাহিনীর প্রবেশ দাবিতে ভাইরাল ভিডিওটি পুরোনো, ঘটনাস্থলও ভিন্ন

বুলগেরিয়ার ঘটনাকে নেতানিয়াহুর ওপর হামলা বলে প্রচার

কাতার নিজ ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে—দাবিটি সঠিক নয়