সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতাউয়ে একাধিকবার অগ্ন্যুৎপাতে ঘটেছে। এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, এগুলো সেই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য।
‘Probash Kotha - প্রবাস কথা’ নামের ফেসবুক পেজে ৮ সেপ্টেম্বর একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা পর্যন্ত ভিডিওটি প্রায় ৫ লাখ ১ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটিতে ৬ হাজার ৪০০ রিয়েকশন, ৬৯ কমেন্ট ও ৫৪৪ শেয়ার রয়েছে।
আলোচিত দাবিতে অপর একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন নিউজ ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফেস দ্য পিপল ।
প্রচারিত ভিডিওতে একটি আগ্নেয়গিরি থেকে লাভার ফোয়ারা উঠতে এবং রাস্তায় মানুষজনকে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। এ সময় একজনকে ইংরেজিতে ‘ও মাই গড, ইটস রকিং’ বলতেও শোনা যায়।
অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির এমন কোনো ভিডিও পাওয়া যায়নি। পরে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ‘Dailyscienceinfo’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে হুবহু একই ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর ক্যাপশনে এটিকে ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ভয়াবহ মুহূর্তের দৃশ্য হিসেবে দাবি করা হয়। তবে অ্যাকাউন্টটি পর্যালোচনা করে বেশ কিছু এআই-নির্মিত ভিডিও পাওয়া যায়।
পরে ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কি না, তা যাচাই করতে একাধিক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুলের সহায়তা নেওয়া হয়। এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘হাইভ মডারেশন’-এর বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।
ভিডিও-২
প্রচারিত দ্বিতীয় ভিডিওর দৃশ্যে অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভা ও ছাই আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, দৃশ্যটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতের নয়।
ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেম নিয়ে অনুসন্ধানে ‘Martin Rietze’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে এর দীর্ঘ সংস্করণ পাওয়া যায়। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর ‘Krakatau at night’ শিরোনামে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ওই ভিডিওর প্রথম ১০ সেকেন্ডের দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে। ভিডিওটির বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি ২০১৮ সালের ২৪ থেকে ২৬ অক্টোবরের মধ্যে আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতের চিত্র। অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্যগুলো কোনো টাইমল্যাপস ছাড়াই বাস্তব সময়ে ধারণ করা হয়েছে বলেও বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর আনাক ক্রাকাতাউয়ের আগ্নেয়গিরি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। এর ফলে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় আটটি বিমানবন্দর সাময়িক বন্ধ এবং ১ হাজার ৫৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউয়ে অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য দাবিতে ছড়ানো ভিডিও দুটির মধ্যে একটি এআই দিয়ে তৈরি, অন্যটি ২০১৮ সালের অগ্ন্যুৎপাতের পুরোনো ভিডিও। ফলে, ভিডিও দুটিকে সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় হওয়া অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর।