৫৫ পেরিয়ে ৫৬ বছরে পা দিয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। গত ৫৫ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্তির ঝুড়ি অনেকটাই পূর্ণ। তবে অপ্রাপ্তিও কম নয়। এখানে মাত্র ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। ১৯৬৬ সালের ১৮ নভেম্বর চারটি বিভাগ নিয়ে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় যাত্রা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক দিয়ে এটি তৃতীয় বৃহত্তম এবং আয়তনে দেশের সর্ববৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয় এটি।
মহান মুক্তিযুদ্ধে চবির ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী তাঁদের জীবন বিলিয়ে ত্যাগের স্বাক্ষর রেখেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মো. হোসেন পেয়েছেন বীর প্রতীক খেতাব। এছাড়া ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ দেশের ক্রান্তিলগ্নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিলো দৃঢ়চেতা।
৫৫ বছরের এই পথচলায় চবি জন্ম দিয়েছে অসংখ্য রথী-মহারথীর। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, ভৌত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জামাল নজরুল ইসলাম, সৈয়দ আলী আহসান, মুর্তজা বশীর, ঢালী আল মামুন, অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক আবুল ফজল, আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাবেক ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান প্রমুখ।
এত এত প্রাপ্তির মধ্যেও কিছু অপ্রাপ্তির বোঝা এখনও বয়ে বেরাতে হচ্ছে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। আবাসন সংকট এর মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠার সময় এটি সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় বলা হলেও বর্তমানে ২৭ হাজার ৫৫০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১১টি আবাসিক হল ও একটি হোস্টেলে আসন রয়েছে ৫ হাজার ৩০টি। যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ১৮ শতাংশ। তবে উদ্বোধন হলেও এখনো চালু হয়নি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শাটল ট্রেনে বাড়েনি কোন বগি। ১০টিরও বেশি বিভাগে এখনো দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত সেশনজট আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী তানহা ইসলাম ছোঁয়া বলেন, ‘৫৫ বছরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় যেমন অনেক এগিয়ে গেছে, তেমন কিছু ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে আছে। বড় যে অপ্রাপ্তি তা হলো নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়া। যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি আমরা তা হলো ছাত্রছাত্রীদের ওপর স্থানীয়দের প্রভাব। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক থেকে শুরু করে বাড়িওয়ালা, সবার কাছে হেনস্তার শিকার হতে হয় শিক্ষার্থীদের।’
উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, ‘১৯৬৬ সালে মাত্র চারটি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন বিভাগ ও ইনিস্টিউটের সংখ্যা ৫৪টি। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গণে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। গবেষণায় এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করছে। বেশকিছু ক্ষেত্রে র্যাংকিয়ে আমরা এগিয়েছি।’