হোম > ছাপা সংস্করণ

‘বাঁচাতে পারলাম না নাতিনকে’

ফায়সাল করিম, চট্টগ্রাম

বড়পোল এলাকায় শুক্কুর মেম্বারের বাড়িজুড়ে হঠাৎ নেমেছে রাজ্যের নীরবতা। পরিবারের সবাই আছেন, আছেন অনেক স্বজনও। অথচ কারও মুখে কথা নেই। প্রত্যেকের মুখের রেখায় ভর করেছে প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক। সেই শোকের ভারী পাথরে যেন চাপা পড়েছে তাদের ভেতরের এক সমুদ্র কান্না।

বাড়ির বড় মেয়ে হলেও সবার খুব আদরের ছিলেন সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া। অথচ মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নালায় পড়ে তার এমন করুণ মৃত্যু হবে এমনটি তো কারও কল্পনাতেও আসেনি। গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টায় আগোাবাদ মাজার গেটের পাশের বড় নালায় পড়ে যান সাদিয়া। ৫ ঘণ্টার পর মিলে তাঁর মরদেহ।

নিজের চোখের সামনেই নাতনিকে নালায় পড়ে তলিয়ে যেতে দেখেছেন নানা মো. জামাল। মঙ্গলবার দুপুরে সাদিয়াদের ঘরের ডাইনিং রুমে শোকে বিভোর হয়ে বসে ছিলেন সৌম্য মুখের এই বৃদ্ধ। হঠাৎ বিলাপ করে বলে উঠলেন, ‘চোখের সামনে সে নালায় পড়ে গেল। আমিও সঙ্গে সঙ্গে পড়ে গেলাম। আমার বড় ছেলে আমাদের বাঁচাতে লাফ দিল। জায়গাটা অনেক পিচ্ছিল ছিল, অনেক স্রোত। পানির ধাক্কায় আমরা ভেসে যাচ্ছিলাম। ছেলে আমাকে ধরে রেখেছিল। কিন্তু মুহূর্তেই চোখের সামনে পানিতে পড়ে পিছলে গেল নাতিন। পানির ধাক্কায় গিয়ে মিশে গেল কালভার্টের নিচে থাকা ময়লার স্তূপে। ময়লার মধ্যেই প্রাণপণে তাকে খুঁজার চেষ্টা করলাম। পেলাম না। পরে রাত ৩ টায় যেটা পেলাম সেটা ছিল আমার নাতিনের লাশ। বাঁচাতে পরলাম না নাতিনকে।’

সাদিয়ার বাবা মোহাম্মদ আলী মেয়ের জন্য কাঁদতে কাঁদতে কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছেন।

হঠাৎ ভেতরের রুম থেকে ভেসে এল এক নারী কণ্ঠের বিলাপ। তাকাতেই চোখে পড়ল পর্দার আড়ালে দাঁড়িয়ে আছেন সাদিয়ার মা। অস্ফুট কণ্ঠে বললেন, ‘আমার মেয়েটা সোজা জান্নাতে যাবে। আমার এমন লক্ষ্মী মেয়েটা।’

পাশেই করুণ মুখে দাঁড়িয়ে ছিল সাদিয়ার ছোট বোন সিনথিয়া। তার দিকে দেখিয়ে খালা রোজী বেগম বলেন, চার ভাইবোনের মধ্যে সাদিয়া ছিল সবার বড়। ছোটদের অভিভাবকের মতো আগলে রাখত সে। 

চশমা নেওয়া হলো না সাদিয়ার
‘মারা যাওয়ার দশ মিনিট আগেও আমার দোকানে এসেছিল মেয়েটি। সঙ্গে ছিল তার নানা আর মামা। নানা চশমা পছন্দ করলেও সাদিয়া করতে পারেনি। সে অনেকগুলো চশমা থেকে দুটো চশমা দেখে রেখেছিল। বলেছিল সকালে মায়ের সঙ্গে এসে সেগুলো থেকে একটি নিয়ে যাবে। অথচ সেই চশমা আর নেওয়া হলো না মেয়েটির।

মঙ্গলবার দীর্ঘশ্বাস নিয়ে কথাগুলো বলছিলে নগরের বাদামতলী মোড়ের চশমা দোকানি মো. আবছার। সোমবার মৃত্যুর দশ মিনিট আগে তার দোকান থেকেই চশমা কিনতে এসেছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া।

আবছার অপটিক্যাল নামে দোকানটিতে কথা হয় তার সঙ্গে। এ সময় মেয়েটির জন্য তার মুখেও দেখা যায় শোকের রেখা। সাদিয়ার পছন্দ করা দুটি চশমা বের করে কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন, অনেকগুলো চশমা দেখে এই কালো-কমলা রঙের আর কালো-নীল রঙের দুটি চশমা সে নেবে বলে ঠিক করেছিল। এই চশমাগুলো দেখলেই আমার চোখ পানিতে ভিজে উঠছে।

পাশের দোকানের জামাল অপটিকেলের দোকানি মো. হাসান বলেন, আমার চোখে এখনো মেয়েটির ছবি ভাসছে। ভুলতে পারছি না। পাশের দোকানে যাওয়ার আগে আমার দোকানে এসেছিল।

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন

রোজা রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করা যাবে কি?

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেষ সাক্ষীর জেরা চলছে

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশায় সাগরে জেলেরা

ভারতের নিষেধাজ্ঞা: স্থলবন্দর থেকে ফেরত আসছে রপ্তানি পণ্য

নিলামে গৌতম বুদ্ধের রত্নসম্ভার

যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সমালোচনা জাতিসংঘের উদ্বেগ

ভারতের হামলা, পাকিস্তানের প্রস্তুতি

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস