ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও দাবির মুখে হলে থাকার সুযোগ পেলেন বিবাহিত ছাত্রীরা। এ ক্ষেত্রে কয়েক দশকের পুরোনো যে বিধানটি বাধা ছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান। সভায় প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল বাছির, সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানীসহ বিভিন্ন হলের প্রভোস্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আকরাম হোসেন জানান, নারী শিক্ষার্থীদের হলের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে নিয়ম ছিল, তা রহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা এবং মা-বাচ্চা উভয়ের সুবিধার্থে হলে থাকার বিষয়ে বারণ করা হচ্ছে। তবে কোনো ধরনের বাধা নেই। সিদ্ধান্তটি সুপারিশ হিসেবে সিন্ডিকেটে যাবে, তারপর চূড়ান্ত হবে।
তবে চারটি দাবির মধ্যে একটি দাবি মেনে নেওয়া খুশি নয় ছাত্রীরা। জানতে চাওয়া হলে আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রতিনিধি শামসুন নাহার হলের সাবেক ভিপি শেখ তাসনীম আফরোজ ইমি গত রাতে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি দাবি ছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। যেটা মূল ফোকাসে ছিল সেটি মেনে নিয়ে বাকি নিয়মগুলো কেন মানা হলো না? আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে খুশি হতে পারলাম না। সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের পাঁচটি হল আছে। হলে আসন বণ্টন সম্পর্কিত নীতিমালায় বলা আছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়মভঙ্গের কারণে তাঁর সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না।’
সম্প্রতি শামসুন নাহার হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে বিবাহিত দুই ছাত্রীর সিট নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর পর থেকেই পাঁচটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধান বাতিলসহ মোট চারটি দাবিতে পাঁচটি ছাত্রী হলের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের অন্য দাবিগুলো হলো—শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের মর্যাদা রক্ষায় সব ছাত্রী হলে ‘লোকাল গার্ডিয়ান’ বা ‘স্থানীয় অভিভাবক’-এর পরিবর্তে ‘ইমার্জেন্সি কন্টাক্ট’ বা ‘জরুরি যোগাযোগ’ শব্দটি রাখা, আবাসিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্বারা যেকোনো ধরনের হয়রানি এবং অসহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধ করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা এবং শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকা সাপেক্ষে অনাবাসিক ছাত্রীদের হলে প্রবেশের অধিকার পুনর্বহাল ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের হলে অবস্থান করতে দেওয়া।
এদিকে, অন্তঃসত্ত্বা ও বিবাহিত শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে না দেওয়ার বিধি বাতিল করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে গতকাল আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই বিধি বাতিল না করলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।