স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনায় ভালো ফল করলে মা-বাবা বা পড়শিরা বলেন ‘ওর মাথা খুব ভালো’। মোহাম্মদ জাকারিয়ার মাথা তাহলে অনেক ভালোই বলতে হবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষায় ৪১ হাজার মাথা টপকে প্রথম হয়েছেন তিনি। তাঁর সেই মাথাতেই কিনা পড়ল থাপ্পড়! তা-ও অন্য কোনো কারণে নয়, শুধু ভালো ফলের জন্য!
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে খ ইউনিটের ফল প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মোট ৪১ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৭ হাজার ১২ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। উত্তীর্ণের হার ১৬ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ভর্তির যোগ্য বিবেচিত এই ৭ হাজার ১২ জনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৩৭৮ জন মেধাক্রম অনুযায়ী কলা অনুষদের বিভিন্ন বিভাগে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভর্তি পরীক্ষায় ১২০ নম্বরের মধ্যে ১০০ দশমিক ৫ পেয়ে মেধাতালিকায় প্রথম হয়েছেন দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করা জাকারিয়া।
ফল প্রকাশের পর জাকারিয়া গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ফোকাস কোচিং সেন্টারের রাজধানীর ফার্মগেট শাখায় ভর্তি কোচিং করেছিলেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জাকারিয়া অভিযোগ করেন, ফল প্রকাশের ঘণ্টা তিনেক পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ফোকাসের ফার্মগেট শাখায় কিছু লোক গিয়ে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এর আগে আরেকজনের একটি পোস্ট শেয়ার করেন তিনি। সেখানে দেখা যায়, মোহাম্মদ লিমন নামের একজন জাকারিয়ার হাতে ফুল দিয়ে তাঁকে ‘আইকন প্লাস’ নামের একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী দাবি করেছেন। জানা যায়, লিমন আইকন প্লাসের অন্যতম পরিচালক। ওই পোস্টটি শেয়ার করে জাকারিয়া লেখেন, ‘হুদাই! একটি ফ্রি ক্লাস করলে শিক্ষার্থী হয়ে যায়, এটা জানতাম না।’
বিকেলে জাকারিয়া ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘ফোকাস ফার্মগেট শাখায় আছি। লাইভের সময় হঠাৎ বাইরে হুড়োহুড়ি। কিছুক্ষণ পরে কিছু লোকজন ঢুকল। ঢুকেই বলল, এই তোরা কি মিটিং করোছ নাকি? এসেই ফোকাসের ভাইদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করল। আমারেও বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু যাইনি। একপর্যায়ে টানাটানি। তাতেও না নড়ায় এক কালো পান্ডা মাথায় থাপ্পড় দিল। একপর্যায়ে দেখলাম, এক কোচিংয়ের কিছু টিচার। আসছিল, জোরজবরদস্তি করে বলাবে আমি তাদের কোচিংয়ের।’
এ অভিযোগ অস্বীকার করে আইকন প্লাস কোচিং সেন্টারের অন্যতম পরিচালক কামাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের অফিস ছয়তলায় আর ফোকাসের অফিস দ্বিতীয় তলায়। হঠাৎ জোরেশোরে আওয়াজ হলে আমরা ওইখানে যাই। তখন দেখি ফোকাসের লোকজন শাটার বন্ধ করে কোনো একটা মিটিং করতেছে। বাইরে কিছু বহিরাগত লোক আওয়াজ করছে। আমি এতটুকু জানি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। কেন আমাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আমি জানি না।’
আর ফোকাস ফার্মগেট শাখার এক পরিচালক বলেন, ‘আমাদের কোচিংয়ের শিক্ষার্থী জাকারিয়াকে আমরা সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ফার্মগেট শাখায় এনেছিলাম। কিন্তু হঠাৎই অন্য কোচিংয়ের একদল লোক এসে সংবর্ধনা দিতে বাধা দেয়। ওই সময় তারা জাকারিয়াকে ছিনিয়ে তাদের সঙ্গে করে নিয়েও যেতে চায়। পরে জাকারিয়া যেতে না চাইলে ব্যর্থ হয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে তারা চলে যায়।’
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য মোহাম্মদ জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।