কয়েক বছর ধরে এ টার্মটি খুব চলছে। অভিযোগটি নারীরাই করেন পুরুষদের বিরুদ্ধে। প্রতারিত বোধ করার পর এ ধরনের হিংসাত্মক টার্মের জন্ম দেন নারীরা। ধর্ষণের সংজ্ঞাটিও যেন ভিন্ন মাত্রা পেয়ে যাচ্ছে। একজন নারী ও একজন পুরুষ যখন প্রেমের সম্পর্কে জড়ান, তখন দুজনের ভবিষ্যৎ কল্পনায় বিয়ের বিষয়টি ফ্যান্টাসি হিসেবে থাকা খুবই স্বাভাবিক। সব প্রেম বিয়ে পর্যন্ত গড়ায় না। কিন্তু সব প্রেমের স্বপ্নে থাকে বিয়ে, নিতান্ত ধান্দাবাজ প্রেমিক না হলে। এ ক্ষেত্রে প্রেমিক শব্দটি এ জন্য বলা, নারীরা প্রতিটি সম্পর্কেই বিয়ের ভাবনাটি মাথায় রাখেন। সে ক্ষেত্রে প্রেমিক পুরুষের মন ‘টাইম পাস’ থেকে শুরু করে ভোগবাদী জীবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নেন। যেখানে পুরুষটি হন বিবাহিত, সেখানে প্রলোভন যত বিশ্বাসযোগ্য আর প্রেমময়ই হোক না কেন, অপরপক্ষ বা নারীটি তো শিশু নন। আর এই জটিল সম্পর্কগুলো কিশোর বয়সে গড়ে ওঠে না, গড়ে ওঠে মধ্যবয়সে। যে বয়সে একজন নারী তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক বয়সের পরিপূর্ণ সময়ে বাস করেন। ভুল করার বয়স এটা নয়। একমাত্র নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত জীবনযাপন করলেই এ ধরনের ভুলের জন্ম হবে।
বিষয়টি হাস্যকর পর্যায়ে চলে গেছে এই ভার্চুয়াল সমাজে। এর সূচনাও কিন্তু হয় স্বপ্রণোদিত। কাজের জায়গায় সুবিধা পাওয়ার জন্য নারীত্ব প্রদর্শনপূর্বক দৃষ্টি আকর্ষণ করে এর শুরু হয়। তারপর হয় বন্ধুত্ব। যাকে বলে ‘জাস্ট ফ্রেন্ডশিপ’। ঠিক ওই ‘কাভি আল বিদা না ক্যাহনা’র শাহরুখ-রানীর মতো। এরপর ধীরে ধীরে এই দুইয়ের মাঝে অনুপ্রবেশ করে রিপু। ছয় রিপুর মধ্যে এই কামরিপু মানে না কোনো বাধা, যদি না থাকে আপনার মাঝে ন্যূনতম নীতি-নৈতিকতা। এই ক্ষণিকের শারীরিক আবেগের চূড়ান্ত পরিণতি দুজনের ইচ্ছা আর ভালো লাগাতেই ঘটে যায়। অথচ পুরুষটির মুখোশ যখন খুলে যায় নারীটির কাছে, চাওয়া-পাওয়ার হিসাবে যখন অঙ্ক মেলে না, সেই ক্ষণিকের আবেগ আদালতে ওঠে ধর্ষণ নাম নিয়ে। আদতে কি এটিকে ধর্ষণ বলা যায় যদি না হয় জোরপূর্বক? দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজেদের সম্মতিতে সমান আনন্দে শরিক হয়ে সময় কাটাবেন, একটা সময় পর অভিযুক্ত হবেন একজন। এ ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভন শব্দটি খুব শিশুতোষ শোনায়।
কেন খুচরা প্রেমের হিসাব-নিকাশে এত হিংসাত্মক হতে হয়? এই যে দেওয়া-নেওয়ার প্রেম—আমি তোমাকে আনন্দ দেব, তুমি আমাকে টেনে তুলবে ওপরে; এসবের উদ্দেশ্যের মতো পরিণতিও কখনো ভালো হতে পারে না। পুরুষের নারীলোলুপতা যদি নেতিবাচক টার্ম হয়, নারীর নারীত্ব দেখিয়ে ওপরে ওঠার রাস্তাও জঘন্য নেতিবাচক বিষয়। অথচ লোকটি কিন্তু সেই নারীর সঙ্গে অভিজাত স্যুটে সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরে স্ত্রীর সঙ্গেই ‘কমফোর্ট ফিল’ করছেন। নারীটি তাঁর ওই এক চিলতে বারান্দা। স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলে বা মনোরঞ্জনের জন্যই পুরুষ ওই বারান্দায় পা দেবেন। এদিকে নারীটি তাঁকে ঘর বানিয়ে স্বপ্ন সাজানো শুরু করে দেন। স্বপ্নভঙ্গ হতেই তিনি বাতাসে তাঁর খবর করতে শুরু করেন। এতে তাঁর অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছুই বিলীন হয় না।
শাকিল আহমেদ আমাদের পরিচিত নাম। যিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় কথা বলেন। যিনি সাংবাদিক শাকিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভ্রুণ হত্যাসহ প্রতারণার, তাঁকে দেখেও অবাক হতে হয়। দুজনই বিবাহিত। নিজেদের অসুখী জীবনের দোহাই দিয়ে যে আরেকটা অনৈতিক সম্পর্ক চালানো যায়, এ বড় অদ্ভুত অবিবেচক মনোবিকার। যথারীতি অভিযুক্ত শাকিল জামিন পেয়েছেন। পুরুষের দোষত্রুটি সমাজ এবং সংবাদমাধ্যম অতিযত্নের সঙ্গে গোপন করে। এ ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই।
যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি একজন চিকিৎসক। যদিও তিনি সংবাদ পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। এ পরিচয়টি প্রতিষ্ঠা করতে গিয়েই হয়তো তিনি ‘প্রতারণা’র শিকার হয়েছেন। নারীরা কবে আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে শিখবেন?