গিজার
গোসল করার ১০ মিনিট আগে গিজার অন করে নিলে ঠান্ডা পানির বদলে ঝরবে গরম পানি। পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী গিজার লাগানো উচিত। ভালো ব্র্যান্ডের গিজারে অটো কাট-অফ, থার্মাল কাট-আউট, কপার হিটিং এলিমেন্ট, টু ইন ওয়ান প্রেশার কাম রিলিজ ভাল্ভ থাকবে।
গিজারের সঙ্গে থাকে একটি ওয়াটার ট্যাংক ও দুটি পানির পাইপ। একটি পাইপ দিয়ে পানি গিজারের ভেতর আসে, আরেকটি দিয়ে গরম পানি বের হয়। ওয়াটার ট্যাংকে পানি গরমের যন্ত্রাংশ থাকে, যেগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে থার্মোস্ট্যাট।
পুরো বাথরুম বাদে শুধু শাওয়ার থেকে গরম পানি পেতে চাইলে ইনস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক হট ওয়াটার শাওয়ার লাগাতে পারেন। এ ছাড়া, বাজারে মিলবে ইনস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক ওয়াটার হিটার। এতে একটি হ্যান্ড শাওয়ার যুক্ত থাকবে।
দরদাম
ভালো ব্র্যান্ডের ৪৫ লিটারের গিজারের দাম ৬ হাজার ৮০০ টাকা। ওয়ারেন্টি পাবেন সর্বোচ্চ দুই বছরের। ইনস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক হট ওয়াটার শাওয়ারের দাম পড়বে ১ হাজার ২৫০ টাকা। আর ইনস্ট্যান্ট ইলেকট্রিক ওয়াটার হিটারের দাম পড়বে ৪ হাজারের আশপাশে।
গরমকালে এসি যে কাজে ব্যবহার করা হয়, তার ঠিক উল্টো কাজে লাগানো হয় রুম হিটার। তাপমাত্রা যখন ধীরে ধীরে নিচের দিকে নামতে থাকে, তখন রুম হিটার বেশ আরাম দেয়। ঘুমানোর আগে রুম হিটার চালিয়ে ঘরটা একটু গরমও করে নেওয়া যায়। ঠান্ডা হাত-পায়ে লাগানো যায় গরম বাতাস।
ব্যবহারের সময় কোনোভাবেই কম্বল বা লেপের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখবেন না এটি। পানি ফেললেও নষ্ট হয়ে যাবে। প্রথমবার ব্যবহারের সময় পোড়া গন্ধ পেতে পারেন। এটা হিটারে থাকা তেলের গন্ধ। কেনার সময় দেখে নেবেন রুম হিটারটি মুভেবল কি না।
দরদাম
দেশে ভালো ব্র্যান্ডের রুম হিটার পাবেন ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
হিটেড কফি মগ
এক শহর থেকে আরেক শহরে যাওয়ার সময় এটা কাজে লাগবে। প্রাইভেট কারের কাপ হোল্ডারে বা বাসের কাপ হোল্ডারেও এটা রাখা যাবে। আর কাপের ভেতরে নেওয়া যাবে পানি, কফি, দুধ ও চা। গাড়িচালকের জন্য বেশ উপযোগী এটি। দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানো বা দীর্ঘ পথ বাসযাত্রার সময়
গরম-গরম চা বা কফি খেলে
ক্লান্তি দূর হবে।
দরদাম
স্টেইনলেস স্টিলের
তৈরি এই মগের
দাম পড়বে
১ হাজার ৭০০ টাকার মতো।
ইলেকট্রিক হট ওয়াটার ব্যাগ
ব্যথা কমানোর জন্য অনেকেই শরীরে গরম সেঁক দেন। কিছুদিন আগেও সুতির মোটা কাপড়ে ইস্তিরি ডলে সেই কাপড় দিয়ে গরম সেঁক দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে এল প্লাস্টিকের তৈরি হট ওয়াটার ব্যাগ। সেই ব্যাগের মুখ খুলে গরম পানি ঢুকিয়ে ব্যাগের মুখ বন্ধ করতে হতো। তবে এই ব্যাগ কখনোই খুব বেশি নিরাপদ ছিল না। গায়ের চাপে কোনোভাবে ফেটে গেলেই গরম পানিতে গা পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। নতুন ধরনের হট ওয়াটার ব্যাগে এসব ঝামেলা নেই।
নতুন এই হট ওয়াটার ব্যাগে প্রতিবার নতুন করে পানি ভরতে হয় না। পানির বদলে ভেতরে থাকে সিলিকা জেল। ইলেকট্রিসিটিতে চলা এই ব্যাগ ১০ মিনিটেই গরম হয়ে যায়। ২ থেকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত গরম থাকে। ঠান্ডায় হাত-পা জমে গেলে এই ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন। বাইরে থাকে এসে ব্যাগটি ইলেকট্রিসিটিতে গরম করে নিয়ে তার ভেতর হাত বা পা ঢুকিয়ে রাখলেই গরম হয়ে উঠবে সেগুলো।
দরদাম
ইলেকট্রিক হট ওয়াটার ব্যাগ কিনতে খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ১ হাজার টাকা। কোথা থেকে কিনছেন, কোন ব্র্যান্ডের কিনছেন তার ওপর নির্ভর করবে এর দাম।
ইলেকট্রিক কেটলি
গরম পানি দিয়ে রান্নাঘরের কাজ সারতে বা গোসলের পানি গরম করতে এটি অপরিহার্য। যদি বারবার চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলেও এটি ব্যবহারে অনেক ঝামেলার হাত থেকে বেঁচে যাবেন। প্লাস্টিকের কেটলি এড়িয়ে স্টেইনলেস স্টিলের কেটলি কিনতে পারেন। এখন বাজারে সিরামিকসের দৃষ্টিনন্দন কেটলিও পাওয়া যায়। ভেতরের অংশটা স্টেইনলেস স্টিলের। দেখতে অনেকটা টি পটের মতো।
দরদাম
কত লিটারের কিনছেন তার ওপর দাম নির্ভর করে। ১.২ লিটারের ইলেকট্রিক কেটলি ১ হাজার টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়। তবে সিরামিকের তৈরি কেটলি কিনতে গেলে খরচ পড়বে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।