হোম > ছাপা সংস্করণ

ইসলামে নারী শিক্ষার তাগিদ

কাজী ফারজানা আফরীন

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নারী শিক্ষার বিকল্প নেই। বিশেষ করে একটি পরিবারকে সুশিক্ষিত করে তুলতে হলে শিক্ষাক্ষেত্রে নারীকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। নারী সম্মান, মর্যাদা ও মাতৃত্বের প্রতীক। ইসলামে নারী শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

জ্ঞানার্জন ছাড়া আল্লাহকে চেনা যায় না এবং কোনো ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। তাই ইবাদত করার আগে এ সম্পর্কে শিক্ষা অর্জন সবার জন্য ফরজ। রাসুল (স.) ইরশাদ করেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ, বায়হাকি)

নারীদের শিক্ষা-দীক্ষার জন্য রাসুল (স.) জোর তাগিদ দিয়েছেন। পুরুষদের মতো নারীদের জন্যও শিক্ষা-দীক্ষাকে আবশ্যক করা হয়েছে। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও নবী (স.)-এর কাছে তালিম নিতেন। সম্ভ্রান্ত নারীদের সঙ্গে সঙ্গে দাসীদেরও শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসলামের বিধিবিধান মেনে চলতে পারলে নারীদের জন্য শুধু প্রাথমিক শিক্ষাই নয়, বরং উচ্চশিক্ষা লাভ করতেও কোনো বাধা নেই।

কোরআন-হাদিস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, নারীর মেধা-মনন, বিবেক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের ক্ষেত্রে রাসুল (স.) অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে নারীর শিক্ষায় ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতাও দিয়েছেন। ইসলামের ইতিহাসে হজরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.), হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.), হজরত ফাতেমাতুজ জাহরা (রা.), হজরত হাফসা (রা.), হজরত উম্মে কুলসুম (রা.) প্রমুখের মতো মহীয়সী নারীরা নৈতিক শিক্ষা ও জ্ঞানের নানা শাখায় দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়