পোষা পিঁপড়া পালনের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে কেনিয়ায় গড়ে উঠেছে বিরল ও মূল্যবান পিঁপড়ার জমজমাট কালোবাজার। বিশেষ করে আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়ার রানি পাচার নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশটির কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশবিদেরা।
গত ২৬ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়—চলতি বছরের শুরুতে নাইরোবি বিমানবন্দরে এক ব্যক্তির লাগেজ থেকে ২ হাজার ২০০-এর বেশি আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়া উদ্ধার করে কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ। পিঁপড়াগুলোকে জীবিত অবস্থায় চীনে পাচারের জন্য ছোট প্লাস্টিকের নলের মধ্যে রাখা হয়েছিল। নলের মুখে ভেজা তুলা লাগানো ছিল, যাতে দীর্ঘ সময় পিঁপড়াগুলো বেঁচে থাকতে পারে। এ ঘটনায় গত এপ্রিলে ওই পাচারকারীকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত বছরও প্রায় ৫ হাজার পিঁপড়া পাচারের অভিযোগে দুই বেলজিয়ান কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
করোনা মহামারির সময় ঘরে বসে পালনযোগ্য নতুন শখ হিসেবে পিঁপড়া পালনের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শৌখিন ব্যক্তিরা স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিকের বিশেষ পাত্রে পিঁপড়ার উপনিবেশ গড়ে তোলেন। এসব ক্ষুদ্র ‘পিঁপড়া নগরী’তে পিঁপড়ার সুড়ঙ্গ খোঁড়া, খাবার সংগ্রহ ও সামাজিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই শখকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বিভিন্ন ভিডিও চ্যানেলে পিঁপড়ার উপনিবেশের গল্প প্রকৃতিবিষয়ক তথ্যচিত্রের মতো তুলে ধরা হয়।
পিঁপড়া পালন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বৈধ হলেও বিরল ও বিদেশি প্রজাতির চাহিদা বৈধ সরবরাহকে ছাড়িয়ে গেছে। আফ্রিকান হারভেস্টার পিঁপড়ার রানি বিশেষভাবে মূল্যবান। কেনিয়ায় এটির দাম মাত্র ৩ ডলারের কাছাকাছি, তবে আন্তর্জাতিক কালোবাজারে এটি ২০০ ডলারেরও বেশি দামে বিক্রি হতে পারে।
পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, ব্যাপক হারে পিঁপড়ার রানি সংগ্রহ করা হলে কেনিয়ার বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একটি উপনিবেশে সাধারণত একটি মাত্র প্রজননক্ষম রানি থাকে। একটি রানি প্রায় ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে এবং হাজার হাজার কর্মী পিঁপড়ার জন্ম দিতে পারে।
পিঁপড়া পূর্ব আফ্রিকার তৃণভূমির পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ঘাসের বীজ ছড়িয়ে দেয়, মাটিতে অক্সিজেন প্রবেশে সহায়তা করে এবং উদ্ভিদের বৃদ্ধির উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। এ ছাড়া প্যাঙ্গোলিনসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাদ্যও এসব পিঁপড়া।
পিঁপড়ার পাচার ঠেকাতে তাই কেনিয়া বিমানবন্দরে তল্লাশি বাড়িয়েছে এবং কঠোর শাস্তির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে পরিবেশবিদদের মতে, জব্দ হওয়া চালানগুলো হয়তো এই অবৈধ বাণিজ্যের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। তাই আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পিঁপড়ার পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সংগ্রাহক ও স্থানীয় জনগণকে সচেতন করাও জরুরি।