দেশের সব বিভাগেই আজ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ইতিমধ্যে বিকেলে রাজধানীসহ দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এতে কমতে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা।
অন্যদিকে দেশের নদ-নদীর ১২৭টি সমতল স্টেশনের একটিতেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, বরং অধিকাংশেই কমেছে। আগামী কয়েক দিনেও প্রধান কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আজ শুক্রবার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সে সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
অন্যদিকে দেশের নদ-নদীর পরিস্থিতি এখন প্রায় শান্ত রয়েছে। পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি সমতল স্টেশনের একটিতেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, বরং ৮৮টি স্টেশনে কমেছে। আগামী কয়েক দিনে প্রধান কয়েকটি নদীর পানি বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস থাকলেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৭টি স্টেশনের মধ্যে মাত্র ৩৭টিতে পানি বেড়েছে, বিপরীতে ৮৮টিতে কমেছে এবং দুটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে।
আগামী তিন দিন সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং এসব এলাকার উজানে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এরপরও ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি আগামী পাঁচ দিনে বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচে থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে কেন্দ্রটি।
সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায়ও পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে কুশিয়ারা নদী মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে সতর্কসীমায় থাকলেও আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারার পানি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
তিস্তা, ধরলা, দুধকুমারসহ উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানিও আগামী তিন দিন সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, বালু, ধলেশ্বরী, তুরাগ ও টঙ্গীখালের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে এবং আগামী তিন দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, ফেনী, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমার প্রবণতায় রয়েছে। আগামী দুই দিন এসব নদীর পানি আরও কমতে পারে। উপকূলীয় নদীগুলোতেও স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটা পরিস্থিতি বজায় থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের কোথাও বর্তমানে কোনো নদী বিপৎসীমার ওপরে নেই। ফলে সামগ্রিক নদী পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে ও স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।