হোম > পরিবেশ

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, দুই জেলায় বন্যার শঙ্কা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি নতুন লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি আরও শক্তিশালী ও ঘনীভূত হয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগ এবং এর সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক তবে সাময়িক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

আজ রোববার বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত পৃথক দুটি বুলেটিনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সৃষ্ট লঘুচাপটির পাশাপাশি মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগ এবং এর আশপাশের উজান এলাকাগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপরের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড না হলেও প্রতিবেশী ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াটে ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করলেও বৃষ্টির প্রভাবে উপকূলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হালদা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২ দিনে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলার কিছু পয়েন্টে সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি আপাতত হ্রাস পেলেও আগামী দুই দিন তা আবার দ্রুত বাড়তে পারে।

উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বর্তমানে হ্রাস পাচ্ছে। সুরমা-কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরীর কিছু পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় থাকলেও আগামী ২-৩ দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস অব্যাহত রয়েছে এবং গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও কমছে। আগামী দুই দিন পর গঙ্গা-পদ্মার পানি কিছুটা বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে।

বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কীর্তনখোলা, লোহালিয়া-মেঘনা, পশুর, ইছামতী, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ অন্যান্য উপকূলীয় নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার বিরাজ করছে। আগামী দুই দিন নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।