রাজধানীর বাতাসে দূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের র্যাঙ্কিং থেকে জানা গেছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) আইকিউএয়ারের সকাল ৮টা থেকে ৯টা সময়সীমার রেকর্ডে দেখা যায়, বিশ্বে সর্বোচ্চ দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ১৭তম আর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ৯১, যা সহনীয় মাত্রায় দূষণের নির্দেশক।
তবে ওয়েবসাইটটির র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, আজ গুলশান এলাকার বাতাস সবচেয়ে বেশি দূষিত অবস্থায় আছে। বিশেষ করে গুলশানের গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকার বাতাস সবচেয়ে দূষিত অবস্থায় আছে। এলাকাটির আইকিউএয়ার স্কোর ১৫১, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
র্যাঙ্কিং তালিকায় আরও যেসব এলাকা রয়েছে— বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস), উত্তর বাড্ডা, বারিধারা লেকসাইড, গুলশান লেক পার্ক, গুলশানের বেজ এজওয়াটার আউটডোর, গোড়ান, পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি, ধানমন্ডি ও গুলশান ২-এর রব ভবন।
বিশ্বজুড়ে বায়ুমান নিয়ে গবেষণা করা এই প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি বায়ুদূষণ হচ্ছে উগান্ডার কাম্পালায়। শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স স্কোর ১৭৪, যা সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক।
আইকিউএয়ারের তালিকায় শীর্ষ পাঁচে থাকা বিশ্বের অন্য শহরগুলো হলো— ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা (১৫২, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), চিলির সান্তিয়াগো (১৫১, সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর), ইসরায়েলের তেল আবিব-ইয়াফো (১২৯, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর) ও ইসরায়েলের জেরুজালেম (১১৯, সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর)।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতিবছর বহু মানুষ মারা যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
বাতাসের বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে করণীয়
অত্যন্ত সংবেদনশীল গোষ্ঠী: শিশু, বয়স্ক, হৃদ্রোগ বা শ্বাসকষ্টের রোগীরা সব ধরনের ঘরের বাইরে না যাওয়াই ভালো।
সাধারণ সুস্থ ব্যক্তি: তাদের উচিত বাইরে কাটানো সময় সীমিত করা এবং শারীরিক পরিশ্রমের কাজ এড়িয়ে চলা।
যদি বাইরে বের হতে হয়, তবে অবশ্যই দূষণ রোধে কার্যকর মাস্ক ব্যবহার করুন।
ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখতে এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন এবং দূষিত বাতাস প্রবেশ ঠেকাতে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন।