ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি), বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাইকোর্টের মাজার গেটের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে এই অভিযানের কার্যক্রম শুরু হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী পুলিশকে তাৎক্ষণিক জরিমানা আদায়ের ক্ষমতা দেওয়ার পর থেকেই নীরব এলাকা বাস্তবায়নে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গত মাসে বিমানবন্দর এলাকায় এই অভিযানের উদ্বোধন করা হয়।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘নির্বাচনের পরে যদি পুলিশ এবং পরিবেশ অধিদপ্তর একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে শব্দদূষণের যে অত্যাচার, সেটা থেকে আমরা হয়তো মুক্তি পেতে পারব।’
পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৫ জারি করেছে। এই বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকার যেসব এলাকা নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে। আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা গেলে শব্দদূষণ ও অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। অযথা হর্ন বাজানো শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. নুরুন নাহার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসি, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার বিপিএম (সেবা), অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, ডিএসসিসি, বিআরটিএ এই চার প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও প্রসিকিউটরের মাধ্যমে ঘোষিত নীরব এলাকার চারটি পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। ডিএমপির শতাধিক পুলিশ সদস্য, ট্রাফিক পুলিশের সহায়তাকারী (ট্যাগ) এবং পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েসের ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবকের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়।
শব্দদূষণের বিরুদ্ধে এ ধরনের সমন্বিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।